অনিয়মের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আবদুস সোবহান

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৩২ PM, ১৬ মে ২০২১

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদনে ভিসি আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে প্রমানিত হওয়ায়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের নিয়োগ পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছিলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  এরপরও ৫ মে কাগজপত্র প্রস্তুত করে ৬ মে সবাইকে ডেকে নিয়োগ দেয়া হয়।  এর পরে বিশ্ববিদ্যালয়
কয়েকদফা মারামারির ঘটনা ঘটে। দেশ জুড়ে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা।
এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর মুহাম্মদ আলমগীরের নেতৃত্বে গঠন করা হয়  তদন্ত কমিটি। কমিটিকে আগামী ৭দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
পরবর্তীতে গত ৮মে বেলা ১১টা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় কমিটির সদস্যরা। দফায়-দফায় মিটিং করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, সাদা দল এবং বর্তমান রুটিন দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহার সাথে।
এর আগে উপাচার্য কার্যালয়ে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর এম আবদুস সোবহানের বিতর্কিত নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেরা করা হয়। একে একে মিটিং করা হয় নিয়োগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

সেদিনই পুলিশি পাহারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে প্রবেশ করে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হন বিদায়ী প্রফেসর এম আবদুস সোবহান।
বিতর্কিত নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেরা শেষে তদন্ত কমিটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন,আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী ভিসি আবদুস সোবহান কর্তৃক প্রদত্ত নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করায় তদন্ত কার্য পরিচালনা করতে এসেছি।
নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সকল ফাইল পত্র এবং কাগজ পত্রাদি যাচাই করে দেখা হয়েছে। যেসব তথ্য এবং কাগজপত্রাদি আমাদের হাতে এসেছে তা আমরা বিচার-বিশ্লেষণ করে এর দায়ভার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করব।

বিদায়ী ভিসি প্রফেসর এম  আবদুস সোবহান নিয়োগের বিষয়ে মুখ খুলে বলেন, যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা এটা ডিজার্ভ করে। কারণ প্রত্যকে অনার্স মাস্টার্স পাশ। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর চাকরী দেয়াটা যৌক্তিক সেজন্য আমি ছাত্রলীগকে এই নিয়োগ মানবিক কারণে দিয়েছি।
নিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বন্ধ ছিলো। দ্বিতীয়,চতুর্থ শ্রেণী ২০১৩-২১ সালের মাঝে কোন নিয়োগ হয়নি। আমরা নিয়োগ নেয়া প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম, সেই নিয়োগ নেয়া প্রক্রিয়া মধ্যে হঠাৎ করে করোনা আসে। আমরা তখন বন্ধ করে দেই। এর পরে চারপাশ থেকে গুঞ্জন শোনা যায়, কিছু কিছু শিক্ষকের মুখে তারা বলে এ নিয়োগ দেয়া যাবে না। মন্ত্রনালয় থেকে নিষেধাজ্ঞা আসবে।  ডিসেম্বর ১৩ তারিখে স্থগিতাদেশ আসে আমি বিস্মিত হই। শিক্ষকরা কিভাবে আগে থেকেই জানলো।  কিছু শিক্ষক ক্যাম্পাসটাকে অস্থিতিশীল করার জন্য চেষ্টা করেছে। এ নিয়োগে কারো কোন হাত নেই। ছাত্রলীগের এটা প্রাপ্তি ছিলো।

তদন্তে সর্বশেষ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যপক আলমগীর হোসেনের কাছে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা ১৩৮ জনের তালিকা পেয়েছি। তাদের মধ্যে ৯ জনের সিভি পেয়েছি। বাকি কারো কোনো ডকুমেন্টস নেই। তার মানে পুরো প্রক্রিয়াতেই অস্বচ্ছতা কাজ করেছে।
এমন তথ্য জানিয়েছেন
ইতিপূর্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে মাত্র ৯ জনের সিভি বা জীবনবৃত্তান্ত পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বাকি ১২৯ জনের সিভি বা কোনো ধরনের ডকুমেন্টস পায়নি বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। যেসব ডকুমেন্টস পেয়েছেন সেগুলো তদন্ত কমিটি নিয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, উপাচার্যের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তাতে অনেক বিষয়ের তিনি উত্তর দিতে পারেননি। অনিয়মের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদন কবে জমা দেয়া হবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বলেন, এখনও কাজ শেষ হয়নি। তবে সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেয়ার চেষ্টা করা হবে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলে চাকরির জন্য জীবনবৃত্তান্তসহ আবেদন করতে বলা হয়। সব নিয়োগেই এমনটি হয়ে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কোনো ডকুমেন্টস জমা পড়েছে কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, যে ডকুমেন্টসগুলো ছিল সেগুলো তদন্ত কমিটি নিয়ে গেছে। এটি তদন্তাধীন বিষয়। এ নিয়ে আর কোনো কথা বলবো না।
অপরদিকে যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের অনেকে বলছেন, একবার নয় কেউ কেউ একাধিকবারও সিভি জমা দিয়েছিলেন উপাচার্যের কাছে।

নিয়োগ পাওয়াদের একজন মাহফুজ আল আমিন দাবি করেন, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা উপাচার্যের কাছে সিভি জমা দিয়েছেন। কেউ কেউ একাধিকবার সিভি জমা দিয়েছেন। এগুলো প্রশাসনের কাছে জমা আছে। নিয়োগকে বিতর্কিত করতে এমন বিষয় ছড়ানো হচ্ছে।

আর আগে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নানা বির্তকের মাঝে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)  বিদায়ী ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান ১৩৭ জনকে অ্যাডহকে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান স্থগিত করেছ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন :