অ্যাডহকে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের যোগ্যতা উচুঁমানের!

বিডি ক্যাম্পাস ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:২১ PM, ২৬ জুন ২০২১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চলতি দায়িত্বে থাকা ভিসি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা সত্যকে লুকিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে সেই সাথে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পাওয়া ৯ জনের যোগ্যতা বিধিমালা থেকে অনেক উচুঁমানের এমনটাই দাবি তোলা হয়েছে। আজ শনিবার (২৬ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজনে এসব কথা বলেন অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তরা।
এসময় তারা বলেন, রাবিতে শিক্ষক নিয়োগে বর্তমান যে নীতিমালা রয়েছে সেই নীতিমালা প্রণয়নের সাত সদস্য কমিটির সভাপতি ছিলেন বর্তমান রুটিন দায়িত্ব প্রাপ্ত ভিসি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা। সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত ১৩৮ জনের মধ্যে যে ৯ জন শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের যোগ্যতা তাঁর দ্বারা প্রণীত বিধিমালা থেকে অনেক উচুঁমানের। বরং আমরাই প্রশ্ন রাখতে পারি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহার একাডেমিক রেজাল্ট কি?

তারা বলেন, আমাদের জানা মতে এই নিয়োগের বিপক্ষে প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহার সহিত যারা সহমত জ্ঞাপন করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকের একাডেমিক রেজাল্ট ভাল নয়।
সংবাদ সম্মেলনে তারা উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা কর্তৃক মন্ত্রণালয় প্রেরিত প্রতিবেদনের সমালোচনা করো প্রতিবেদনটি খন্ডন করে তাদের পক্ষে যুক্তিতর্কসমূহ তুলে ধরেন।
তারা দাবি করেন, নিয়মিত ভিসি দেওয়া নিয়োগ আদেশে রুটিন দায়িত্ব পালনকালে বর্তমান ভিসি এমন স্থগিত আদেশ দিতে পারেন না।

তারা আরো বলেন, এ ধরণের ভুল ব্যাখ্যায় ভরা প্রতিবেদন মন্ত্রনালয়কে দেওয়া ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ এবং উক্ত প্রতিবেদন প্রত্যাহারের দাবী জানাই।

তাদের যুক্তি দেখিয়ে বলেন, বর্তমান রুটিন দায়িত্ব প্রাপ্ত ভিসি শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে দিয়েছেন। মূলত নিয়ম হলো; এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার পর পরবর্তী সিন্ডিকেটে রিপোর্ট প্রদান করতে হয়। গত ৫জুন এই নিয়োগ হওয়ার পর অদ্যবধি কোনো সিন্ডিকেট হয় নাই।

এখানে বর্তমান রুটিন ভিসি সত্যকে লুকিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। আপনাদের আরো অবগত করা প্রয়োজন যে, রেজি; মহোদয়ের চাকরি ২৪ ঘন্টা যে কোন সময় তাকে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। তার দীর্ঘ সময় অনুপস্থিতি এক্ষেত্রে উপাচার্য মহোদয় অধীনস্থ কোন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে কার্য সম্পন্ন করতে পারেন। আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন.৭৩ এর এ্যাক্ট অনুযায়ী উপাচার্য মহোদয়ের উপর অর্পিত ক্ষমতা বলে রেজিঃ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তিনি অন্য কোন কর্মকর্তা দিয়ে কার্য সম্পাদন করতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে সকল পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রক্রিয়াধীন সে সকল জায়গায় এ্যাডহক দেওয়া আইনসিদ্ধ নয়। অথচ এটাও মিথ্যা। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদের বিপরীতে এডহকে নিয়োগ দেওয়া হয় নি। বিজ্ঞপ্তি র বাইরে ৩০০ এর অধিক শুন্য পদ রয়েছে। সেগুলোর বিপরীতে এই অ্যাডহকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, রাবির ৭৩ এর এ্যাক্ট অনুযায়ী কোন বিভাগে বা অফিসে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে বিভাগ বা অফিসের প্লানিং কমিটির বা কর্তৃপক্ষের চাহিদা পত্র থাকতে হবে।

এ বিষয়ে যুক্তি দেখিয়ে তারা বলেন, এখানেও তিনি অজ্ঞতা দেখিয়েছেন। এ্যাডহক নিয়োগের জন্য নয়, কোন চাকুরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ক্ষেত্রে এই চাহিদাপত্র প্রয়োজন হয়।
আবার এক্ষেত্রেও উপাচার্য যদি তাদের কাছে চাহিদা পত্র চেয়ে না পান তাহলে তিনি নিজ ক্ষমতাবলে সার্কুলার দিতে পারেন।

প্রসঙ্গত, চাকরী স্থায়ীকরণ ও দ্রুত যোগদানের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলো নিয়োগপ্রাপ্তরা। সেই সুবাদে ভিসি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচী আয়োজন করে তারা। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়টা নিয়ে সুরহা করা হবে এই আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে এমনটাই জানিয়েছেন তারা।
তবে এরই মাঝে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত ভিসি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা। এর মাঝেই আবার পাল্টা অভিযোগ জানালো নিয়োগপ্রাপ্তরা।

আপনার মতামত লিখুন :