অ্যাম্বুলেন্স চালকদের হামলায় আহত কুবি শিক্ষার্থী

নাজমুল সবুজ,কুবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:১৬ PM, ০৯ জুন ২০২১

 

কুমিল্লায় অ্যাম্বুলন্সে চালকদের সিন্ডিকেট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে এ বেপরোয়া অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সিন্ডিকেটের হাতে লাঞ্চিত ও আহত হয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার মধ্যরাতে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সোহেল রানার বাবাকে চিকিৎসার জন্য নিলে শারীরিক অবস্থা অবনতি হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে উচ্চতর চিকিৎসার জন্য পরিচিত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিতে চাইলে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারদের হাতে ওই শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শওকত রেজা মারধরের শিকার হন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করার জন্য আমাদের পরিচিত এক ড্রাইভারকে ফোন করে নিয়ে আসি এবং রোগীকে নিচে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর জন্য নিয়ে আসি। এসময় টাওয়ার হাসপাতালের সামনে অবস্থানরত কয়েক জন ড্রাইভার তাদের গাড়ি ব্যবহারের জন্য বাধা সৃষ্টি করে। ড্রাইভারদের মধ্যে একজন আমাদের সাথে উগ্র আচরন করে। পরিস্থিতি ভিডিও করার এক পর্যায়ে ভিডিও ক্লিপে উপস্থিত ড্রাইভার আমার গায়ে আঘাত করে। এতে আমার হাতে থাকা ডিভাইসটি পড়ে যায়। তাদের এমন আচরেনে আমাদের আরেক জন বন্ধু প্রতিবাদ করলে তাকেও আঘাত করা হয়। তখন উপস্থিত কয়েক জন ওদেরকে বুঝিয়ে আমাদেরকে ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সে ওঠিয়ে দেয়। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থা আরো নাজুক হয়। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিব। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু শহরে হয়েছে এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের জন্য আমরা পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করব।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের এজিএম ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে বড় একটা সিন্ডিকেট কাজ করে। আমরা পুলিশ প্রশাসনের সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করেও কোন সমাধান পাই নি। আমাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন অ্যাম্বুলেন্স নেই। এমনকি এই সিন্ডিকেটের সাথে কয়েকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ঝামেলা হয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আমরাও প্রশাসনের সহায়তা চাই।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বখতিয়ার চৌধুরী বলেন, ‘আমি এ থানায় সম্প্রতি যোগদান করেছি। কাজেই এর আগে অভিযোগ পেয়েও ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়ে বলতে পারব না। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা অফিসিয়ালি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’

 

আপনার মতামত লিখুন :