ইন্ডিয়ান বুক অব রেকর্ড হোল্ডার অর্জন করলো খুবি শিক্ষার্থী জিসান

প্রতিবেদক খুবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:০৩ AM, ১১ জুন ২০২১

একজন মানুষ নিজেকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে দাবি করতে হলে তার মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত করা অত্যাবশ্যক । আর মনুষ্যত্বের বোধের প্রধান অংশ হলো মানুষ হয়ে মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীলতা। আর তারই এক অন্যতম নিদর্শন স্থাপন করেছে রংপুরের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবক মো. মুহতাসিম আবশাদ জিসান। সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর ভবিষ্যৎকে বানিয়েছেন নিজের স্বপ্ন। আর সেই অধরা স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার বাসনা থেকেই একটি সংগঠন তৈরি করেছেন, নাম দিয়েছেন ‘চলো স্বপ্ন ছুঁই’। নামের মাঝেই যেন কাজের উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। সারাবিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনার ভয়াল গ্রাসে অতিষ্ঠ জনজীবন। তন্মধ্যে বাংলাদেশ ও রেহাই পায়নি। তবে সমগ্র বাংলাদেশে পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সাহসীকতার সাথে করোনা মোকাবিলায় সম্মুখসারীর একজন যোদ্ধা হিসেবে মোঃ মুহতাসিম আবশাদ জিসানকে Indian Book of Records আয়োজিত Indian Humanitarian Award প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র তাকেই এই অ্যাওয়ার্ড এ ভূষিত করেন Indian Book of Records । বৈশ্বিক মহামারির কারণে একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ২০১৮ সালের ৮ ই ডিসেম্বর কতিপয় স্বপ্নবাজ তরুণ তরুণীর হাত ধরে পথ চলা শুরু হয় “চলো স্বপ্ন ছুঁই” এর। তবে অন্যান্য সময়ের পাশাপাশি করোনার শুরু থেকে সম্মুখ সমরে নেমে পড়ে “চলো স্বপ্ন ছুঁই” এর সৈনিকরা।করোনায় কর্মহীন অসহায় মানুষদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৫০০ এর বেশি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে তারা। পরবর্তীতে তারা করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া সাধারণ মানুষকে আত্মনির্ভরশীলতা ফিরিয়ে দিতে “স্বপ্নপূরণ” নামে একটি ইভেন্ট শুরু করে যা এখনো চলমান। এর মাধ্যমে কর্মক্ষম মা-বোনদের সেলাই মেশিন, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি প্রদানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যাবসায় সহযোগিতা করছে “চলো স্বপ্ন ছুঁই”। এখন পর্যন্ত ৩০ জন নারীকে সেলাইমেশিন সহ শতাধিক পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পেরেছে ” চলো স্বপ্ন ছুঁই “।

এছাড়াও তাদের সংগঠনটি ত্রাণ কার্যক্রম দিয়ে শুরু হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় জন সচেতনতা বাড়াতে সারা শহর জুড়ে জীবানু নাশক স্প্রে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দোকানপাটের সামনে নিরাপদ দুরুত্বের সুরক্ষা ছক অঙ্কন, দেয়াল লিখন পোস্টারিং ইত্যাদির পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে পথচারীদের মাঝে নিয়মিত মাস্ক, স্যানেটাইজার, হ্যান্ড ওয়াস ইত্যাদি বিতরণ করে তারা।”কারুপণ্যের” সহায়তায় করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় ২৭,০০০ মাস্ক বিতরণ করা তারা। সেই সাথে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন এবং বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিনামূল্যে স্যানেটারি ন্যাপকিন বিতরণ, রেষ্টুরেন্টের ওয়াশরুমে স্যানিটারি ন্যাপকিন বক্স স্থাপন করে “চলো স্বপ্ন ছুঁই
তরুণ এই স্বেচ্ছাসেবক ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন মানুষের জন্য কিছু করার। স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার ইচ্ছাটা তার ছোট থেকেই ছিলো। শুধু স্বপ্ন দেখেই থেমে যাননি, সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য অবিরাম কাজ করেছেন এবং এখনও কাজ করে চলেছেন। রংপুর জেলার, পীরগাছা উপজেলার সনামধন্য ডাক্তার পরিবারের ড. সামসুল হক এর নাতি মোঃ মুহতাসিম আবশাদ জিসান। বর্তমানে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনে প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত আছেন। সাহসীকতার সাথে করোনা মোকাবিলা করার এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য National Corona Warrior Award, Human Rights Nobel Award-2021, WAC Icon Award-2021, WAC Star Award-2021, Youth Icon Award, Global Humanity Award-2021, Global Award of Excellence-2021, Best Innovative Idea Award-2021, Best Social Worker Award-2021, Covid-19 Hero Award-2020 অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে। তার কার্যক্রম দিয়ে বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম তুলে ধরেছেন। তরুণ এই স্বেচ্ছাসেবক শুধু চলো স্বপ্ন ছুঁই এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নন, গড়ে তুলেছেন আরো কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যুক্ত আছেন অনেকগুলো সংগঠনের সাথে। লিও ক্লাব অব দুর্বার বাংলাদেশ, ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ইয়ুথ ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন প্রোজেক্ট, অ্যাকসেস টু হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল, ভলেন্টিয়ার ফর বাংলাদেশ, ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশ সহ আরো অনেকগুলো সংগঠন এর সাথে জড়িত এই তরুণ। মোঃ মুহতাসিম আবশাদ জিসান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, “পড়াশুনা করি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। জনগণের দেয়া ট্যাক্সের টাকায় পড়াশুনা করি আমরা। সামাজিকভাবে আমাদের একটা দ্বায়বদ্ধতা থেকে যায়, সেই দায়বদ্ধতা থেকে হলেও আমাদের সবার এসব সামাজিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসা উচিত, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমার কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারছি। বহিঃবিশ্বে বিভিন্ন প্রোজেক্টে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছি। ৯ বছরের স্বেচ্ছাসেবী জীবনে পেয়েছি অনেক সম্মান, অনেক মানুষের দোয়া, ভালোবাসা। নতুন এই প্রাপ্তিটাও কাজের স্পৃহাকে আরো বাড়িয়ে দিবে ইনশাআল্লাহ”৷ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির মানুষের স্বপ্ন পূরণই আমাদের কাজের লক্ষ্য। অসহায় মানুষদের স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজে করে যাচ্ছি আমরা। আমাদের এই উদ্যোগে উপকার ভোগ করেছেন সমাজের অসংখ্য মানুষ। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন ভবিষ্যতে যেনো আমি এভাবেই মানুষের পাশে দাড়াতে পারি”।

এরকম যুব সমাজের হাত ধরেই বাস্তবায়নের পথে ধাবিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা। তাই সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে এসব সাহসী যোদ্ধাদের জানানো যাচ্ছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

আপনার মতামত লিখুন :