একমাত্র খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন


  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:০৭ PM, ২০ জুন ২০২১

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র খেলার মাঠ (ধূপখোলা মাঠ) রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২০ জুন) দুপুর ১২ টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বন্ধনে বক্তারা খেলার মাঠে মার্কেট ও বানিজ্যিক ভবন নির্মানের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেইন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই আমাদের মাঠ কাগজে কলমে আমাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হোক। আর আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটাই দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে সিটি কর্পোরেশন বা অন্য কেউ যেন কোনো ধরণের আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল টিমের ক্যাপ্টেন মো হাফিজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মাঠে আমরা খেলতে চাই। প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ তারা যেনো সিটি কর্পোরেশনের সাথে কথা বলে আমাদের মাঠ আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয় এবং এর সাথে সাথে আমাদের মাঠটি সংস্কারের প্রদক্ষেপ যেন নেয়।”

কেন্দ্রীয় ফুটবল টিমের খেলোয়াড় এবং ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল সুমন বলেন, আমাদের এই ধূপখোলা মাঠে অনানুষ্ঠানিক সহ আনুষ্ঠানিক সকল ধরণের খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে একটি কুচক্রি মহলের নজর এই মাঠের উপর পড়েছে। তাদের যদি খারাপ উদ্দেশ্য না থাকতো তাহলে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়ে মাঠে খুটি দিতো। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

এছাড়াও মানববন্ধনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের জামাল উদ্দিন, সৈয়দ শাকিল, আশরাফুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান আসাদ সহ অনেক কর্মী সমর্থক যোগ দেন।

উল্লেখ্য, পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মার্কেট ও পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। গত ১০ জুন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা ও সিটি কর্পোরেশনর সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হরিদাস মল্লিক মাঠের ভেতর ম্যাপ অনুযায়ী চার কোণায় খুঁটি বসান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে না জানিয়ে মাঠের মধ্যে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনায় বিষয়টি নজরে আসার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে রাষ্ট্রপতি হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ শিক্ষার্থীদের খেলার কোনো মাঠ না থাকায় ৭ একর জমির উপর অবস্থিত ধূপখোলা মাঠটি তিন ভাগে ভাগ করে এক ভাগ তখনকার সরকারি জগন্নাথ কলেজকে ব্যাবহারের মৌখিক অনুমতি দেন। আর একটি অংশ ‘ইস্ট এন্ড খেলার মাঠ’ নামে একটি ক্লাবের কর্তৃত্বে রয়েছে। অপর অংশটি রাখা হয় জনসাধারণ খেলার জন্য। বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য এই একটিমাত্র খেলার মাঠ যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চেয়ে এলাকার শিশু কিশোররাই এই মাঠে বেশি খেলাধুলা করে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ২ কি.মি দূরে অবস্থিত হলেও মাঠটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নাম্বার ওয়ার্ডের আওতাধীন। এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র সমাবর্তনও।

আপনার মতামত লিখুন :