এবার ভিসি বাসভবনের সামনে শুয়ে পরেছে ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তরা

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:২৬ PM, ২২ জুন ২০২১

রাজশাহীর আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যস্ততায় আন্দোলন স্থগিত করলেও সিন্ডিকেট সভা শুরুর পূর্বে চাকরী স্থায়ীকরণ ও দ্রুত যোগদানের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডহকের ভিত্তিতে বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্তরা। ভিসি বাস ভবনের শুয়ে ও বসে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে তারা। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিন্ডিকেট সভা শুরুর ঘন্টাখানেক আগে তারা সেখানে অবস্থান নেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়,  সন্ধ্যা সাতটায় উপাচার্য ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্টিত হওয়ার কথা। এর আগেই ৬টার দিকে নিয়োগ পাওয়া ছাত্রলীগের নেতারা ভবনের গেটে অবস্থান নেন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে সেখানে শুয়ে অবস্থান নিতেও দেখা যায়।

আন্দোলনকারী ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান সুমন বলেন,  আমরা এতদিন ধরে পদায়নের দাবিতে আন্দোলন করছি। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েও প্রশাসন কিছুই করছে না। সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়েছে।  আমাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সিন্ডিকেট সভা করতে দেওয়া হবে না।

এর আগে গতকাল রাজশাহীর আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যস্ততায় আন্দোলন স্থগিত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ বছরের শেষ ফাইন্যান্স (এফসি) কমিটির সভা হওয়ার কথা ছিল। সেদিন ১০টায় সভা হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ৯টার মধ্যেই চাকরিপ্রাপ্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন, সিনেট ভবন ও উপাচার্যের বাসভবনে তালা দেন। এতে সেদিনের সভা স্থগিত হয়ে যায়। ফলে এফসি সভার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ২২ তারিখের সিন্ডিকেট সভাও স্থগিত করে প্রশাসন।

পরে গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আয়েন উদ্দিন ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ক্যাম্পাসে আসেন।

পরে তারা প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স কক্ষে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। প্রশাসনের পক্ষে আলোচনায় ছিলেন রুটিন উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা এবং উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলি। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিল ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, বর্তমান সহ-সভাপতি ফারুক হাসানসহ ছাত্রলীগের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী।

প্রায় তিন ঘণ্টার আলোচনা শেষে সাংসদ আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘এটা অস্বীকার করা যাবে না এই নিয়োগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এর স্থায়ী সমাধানের জন্য আজ একটি শান্তিপূর্ণ আলোচনা করেছি। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে যাক। শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হোক। আশা করি শীঘ্রই এর একটি স্থায়ী সমাধান আসবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :