এশিয়ান ইউনিভার্সিটির রজত জয়ন্তীর গল্প

এস কে সায়েম
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৩২ AM, ০২ মার্চ ২০২১

আশির দশকের শেষার্ধ থেকে আলোকিত বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন এক কিংবদন্তী । উচ্চ শিক্ষার বাতিঘর প্রতিষ্ঠার আকন্ঠ বাসনা নিয়ে ঘুরছেন দ্বারে-দ্বারে। শিক্ষার আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে ছুটে চলছেন দিক-দিগন্তে। দেশ ও দেশের বাইরে অর্জন করে যাচ্ছেন জ্ঞানের অমীয় সুধা । শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ এই প্রেরণা নিয়ে ছুটে চলা শিক্ষা জগতের প্রবাদপ্রতীম পুরুষ, অর্থনীতিবিদ, গবেষক,ও লেখক প্রফেসর ড. আবুল হাসান মোহাম্মদ সাদেক। গুনগত শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ ও দক্ষ জনশক্তি গড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বে অন্তর্ভূক্ত করার কারিগর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জ্ঞানের এই পথিকৃৎ।

অবশেষে মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসল ১৯৯৬ সালের ০৪ জানুয়ারি পূর্ব দিগন্তে অর্কের ঝলকানিতে ফুটে উঠল তার স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। উচ্চ শিক্ষার বাতিঘরের অস্ফুটিত চারাগাছ অঙ্কুরিত হল। বাংলাদেশ সরকারের নিকট থেকে শিক্ষা ও ডিগ্রি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯২’ এর অধীনে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়। নাম দিলেন চিরঞ্জয়ী এই কিংবদন্তী ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’। এটি শুধু এখন এশিয়ান নাম নয়, হয়েছে মহীয়ান ,গরীয়ান ও জ্যোর্তিমান।
২০২১ সালের ০৪ জানুয়ারি হাঁটি হাঁটি পা পা করে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ রজত জয়ন্তীতে ( ২৫ বছর) পদার্পণ করলো। বৈশ্বিক মহামারীর কারণে আড়ম্বরভাবে রজত জয়ন্তী পালিত না হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ষব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে হলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, অ্যালামনাই মিলনমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গুণীজন সংবর্ধনা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ম্যাথ অলিম্পিয়াডসহ নানা আয়োজন।
দীর্ঘ এই পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ছিল না কোন ক্লান্তি কিংবা অবসাদ, ছুটে চলছে আপন জ্ঞানের মহীমায়। দেশও দেশের বাইরে উড়িয়ে চলছে তার বিজয় কেতন। কালের পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়টি কলেবরে স্থান করে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ গ্রাজুয়েটদের হৃদয়ের স্পন্দনে। এশিয়ানের আঙ্গিনায় এখন শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভীড়। দেশ-মাতৃকার সেবায় সবাই আজ প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত প্রতিটি মুহুর্ত। নৈতিকতার উন্নত ফুল বাগিচার ফুটন্ত গোলাপ হাতে নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিয়োজিত শিক্ষার্থীবৃন্দ।
বিনীত কলেবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা বেড়ে উঠে দিনে দিনে। দুটি অনুষদ হয় পাচঁটি এবং তিনটি বিভাগ এখন তেরোটিতে দাড়াঁয়। বিভাগগুলো হলো, ব্যবসা প্রশাসন, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, অর্থনীতি, সরকার ও রাজনীতি, সমাজ বিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান, তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা, সমাজ কর্ম, ইংরেজী, বাংলা, ইসলামিক স্টাডিজ, ইসলামের ইতিহাস ও সভ্যতা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। ছাত্র সংখ্যা দুই-তিন শত থেকে আজ আট হাজারে উন্নীত হয়েছে। শুধু সংখ্যায় নয় গুণে-মানে এগিয়ে যায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট, কানাডা, যুক্তরাজ্য, হংকং, মালয়শিয়ে, অষ্ট্রেলিয়াসহ উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বে সেবা দিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। দক্ষ ও মানব সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে মূল্যবোধ সমন্বিত মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে নিরলস পরিশ্রম ও সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান করে যাচ্ছেন দেশ বরেণ্য ও বর্ষীয়ান তিন শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা মন্ডলী পরিষদ। একই সাথে আন্তজার্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সমন্বয় সাধন করে কারিকুলাম ও পাঠ্যসূচি তৈরীর বিস্তর গবেষণা প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ। ফলে দেশ ও দেশের বাইরে উচ্চমহলে নিরঙ্কুশ প্রশংসায় ভাসছে বিশ^বিদ্যালয়টি। এইউবি’র ২ লক্ষ বই এবং জার্নাল সমৃদ্ধ একটি অত্যাধুনিক গ্রন্থাগার রয়েছে। এ গ্রন্থাগারের তালিকাটিতে ভিজ্যুয়াল সুবিধা রয়েছে।
ইতোমধ্যে আশুলিয়ার প্রাণ কেন্দ্রে ১০ একর সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিতে ঘেরা নিজস্ব জায়গায় স্থায়ীভাবে গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন। সেখানে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটির দুপাশে রয়েছে সুবিশাল খেলার মাঠ। মাঠের পশ্চিমপ্রান্তে রয়েছে বিভিন্ন গাছের সমারোহ। সেখানে শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসাথে পূর্ব-পশ্চিম কোণে রয়েছে সারিবদ্ধ কৃত্রিম বন। যা প্রকৃতি প্রেমীদের হৃদয়কে আন্দোলিত করবে।
প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক রজত জয়ন্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘দক্ষ ও মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে মূল্যবোধ সমন্বিত শিক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। একইসাথে মানবীয় পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্য ,মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালিত করে দক্ষ জনশক্তি গড়ার জন্য এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

লেখক: এস কে সায়েম
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :