করোনা মোকাবেলায় সরকার বনাম জনগণের দায়

শামস ই নোমান
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:২৮ PM, ২৮ এপ্রিল ২০২১

করোনা মানব ইতিহাসের প্রতি শতবর্ষে নেমে আসা নানা দুর্যোগেরই একটি একবিংশ শতাব্দীর অভিশপ্ততা। করোনা আদৌও কি প্রকৃতিগত নাকি মানবসৃষ্ট তা এখনো বিস্তর আলোচনা সাপেক্ষ ব্যাপার।

দফায়-দফায় ভ্যাকিসন প্রয়োগ ও লকডাউনসহ নানা স্বাস্থ্যবিধির পরেও বিশ্বব্যাপী করোনার তান্ডব থামছে না। আপন গতিতেই চলছে সংক্রমণ।
আবারও লকডাউনে ফিরছে বিভিন্ন দেশ।
দিনের পর দিন করোনা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। আতঙ্ক বাড়ছেই। করোনার টিকা আবিষ্কার হলেও এখনো অস্বস্তিতে বিশ্ববাসী।

এই প্রাণঘাতী অতিমারিতে ইতোমধ্যে প্রাণ গিয়েছে ৩১ লক্ষের উপরে, আক্রান্তও ছাড়িয়েছে ১৫ কোটির ঘর। সারা বিশ্ব লড়ে যাচ্ছে প্রাণান্তকর। কিন্তু করোনা যেনো প্রতি মাস অন্তর অন্তর নতুন রুপে, নতুন শক্তিতে হানা দিচ্ছে। যা মোকাবিলায় রীতিমত হিমসিম খাচ্ছে পুরো উন্নত বিশ্ব। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারনে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য জনগণের স্বল্প ঘনত্বের আশীর্বাদে করোনা মহামারীর ভয়াবহ ছোবল এখনো ঐভাবে আঁচ করে নি। দক্ষিণ এশিয়ার জনঘনত্বের অভিশপ্ততা যেনো গলার কাটা হয়ে দেখা দিয়েছে করোনা মহামারীতে।

করোনার শুরুর ঢেউয়ে মোড়ল রাষ্ট্র আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রাজিল সহ বহু ইউরোপীয় রাষ্ট্রসমূহ বয়স্কদের চিকিৎসা সেবা দিতে স্রেফ অপরাগতা প্রকাশ করেছিলো। যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলোর বাহিরে অ্যাম্বুলেন্সের সুদীর্ঘ সারি পুরো পৃথিবীকে বিস্মিত করেছিলো। হাসপাতালে তিল ধারনের জায়গা ছিলো না, রোগীরা হাসপাতালের বাহিরে অ্যাম্বুলেন্সেই চিকিৎসা নিচ্ছিলো। সমরাস্ত্রে সমৃদ্ধ দেশসমূহের চিকিৎসা ব্যবস্থ একঅর্থে ধ্বসে পড়েছিলো সাময়িকভাবে। এখনো দেশগুলো অল্পস্বল্প ধুঁকলেও সাধারণ জনগণের দৃড়তায় ঘুরে দাড়াচ্ছে করোনা যুদ্ধে, সরকারের বিধিনিষেধের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে অভ্যস্থ হয়ে উঠছে করোনার সাথে।

কিন্তু আমরা কি পেরেছি?দক্ষিণ এশীয়রা কি পেরেছি?
আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ভারতীয় উপমহাদেশ বর্তমান সময়ে এসে করোনার সবচেয়ে বড় ধাক্কা অনুভব করছে। ভারত সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রার্থনা করেছে। দিল্লী, মহারাষ্ট্রসহ আমাদের সীমান্তবর্তী রাজ্য কলকাতাও ভুগছে ভীষণ। হাসপাতাল ও শ্মশানে লাশের দীর্ঘ সারি। বাংলাদেশের আশু শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সচেতন হওয়ার সময় ফুরিয়ে যায়নি, তবে নাকের ডগায়।

এখন সিদ্ধান্ত আমাদের। উপমহাদেশের করোনা সংক্রমণ রোধে গঠিত কমিটিসমূহের মধ্যকার আপাত সমন্বয়হীনতা চোখে পড়লেও জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ দৃঢ়তা প্রদর্শন করা উচিত। কেননা, মানবিক এবং অর্থনৈতিক তথা সামগ্রিক বিষয় মাথায় নিয়েই তাঁদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই কোন গণ দুর্যোগ মোকাবেলা করার সক্ষমতা সরকারের একার পক্ষে সম্ভবপর হয়ে উঠেনি। প্রয়োজন ছিলো জাতীয় বৃহত্তর ঐক্যের এবং জনগণের সচেতন সম্পৃক্ততার।

সাধারণ জনগণের মধ্যকার একক ব্যক্তি হিসেবে অবশ্যই সামগ্রিক বিষয় সম্পর্কে কারোরই সমৃদ্ধ জ্ঞানের অধিকারী হওয়া সম্ভবপর নয়। যেকোন জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় অবশ্যই সরকারের উর্ধতন বিশেষ কিছু টেকনিক্যাল কমিটি দায়িত্ব পালন করে। করোনা মোকাবেলায়ও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রধান নির্বাহী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে করোনা যুদ্ধে সরকারের একাধিক টেকনিক্যাল কমিটি কার্যরত আছে। বিভিন্ন জাতীয়, আন্তর্জাতিক করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আমাদেরকে অবশ্যই দেশ মাতার বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় সিদ্ধান্ত সমূহে আস্থা রাখা উচিত। যেরকমটা করে সফল হয়েছে উন্নত রাষ্ট্রসমূহ। সরকারের দৃঢ়তার সঙ্গে সাধারণ জনগণের সচেতন সম্পৃক্ততার সুফল ভোগ করছে তাঁরা।

আমাদেরও বৃহত্তর বিপর্যয় রোধে অবশ্যই সরকারের বিধিনিষেধ সমূহের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা উচিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। নিজ, পরিবার এমনকি দেশের ধ্বংস দেখতে না চাইলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে করোনা মোকাবেলায় দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে করোনাকে সাথে নিয়ে আমাদের আগামী ১০-১৫ বছর লড়াই করতে হবে। অতএব করোনার সাথে আমাদের অভ্যস্ত হতে শিখতে হবে।

পাশ্ববর্তী ভারত থেকেও যদি আমরা শিক্ষা না নিয়ে শুধু সরকারের সমালোচনা করার মাধ্যমেই করোনা মোকাবেলা করতে চাই তাহলে আমরা ভুলের রাজ্যে বাস করছি। সরকারকে শুধু করোনা নিয়ে ভাবলেই চলে না, আগামী ১০-১৫ বছরের অর্থনীতি সুদৃঢ় রাখতেও ভাবতে হয়। তৃতীয় বিশ্বের জন্য যা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আপাত দৃষ্টিতে অনেককিছু সঠিক মনে না হলেও দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের জন্য সেসকল সিদ্ধান্তই সঠিকতা নিশ্চিত করে।
করোনায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন।
মহান সৃষ্টিকর্তার পর অবশ্যই সরকারের প্রধান নির্বাহী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপর ভরসা রাখুন।

লেখক:

শামস ই নোমান

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
সাবেক পরিবহন সম্পাদক,
ডাকসু।

আপনার মতামত লিখুন :