কুবিতে নেই সীমানা প্রাচীর ; বন্ধ ক্যাম্পাসে মাদকের আখড়া

নাজমুল সবুজ, কুবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:০৭ PM, ০৫ মার্চ ২০২১

ক্যাম্পাসের বিশাল অংশ জুড়ে সীমানা প্রাচীর না থাকায়, অপর্যাপ্ত ও অকার্যকর ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, নিরাপত্তা কর্মীর সংকট এবং প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দূর্বলতার সুযোগে ক্যাম্পাসের পিছনের অংশে নিয়মিত মাদকের আসর বসাচ্ছে বহিরাগত মাদকসেবীরা। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে যেকোন সময় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে শঙ্কা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ক্যাম্পাসে পিছনের অংশে তাঁরকাটা এবং সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে অস্থায়ীভাবে সীমনা প্রাচীর দেওয়া হয়। কিন্তু দেখভালের অভাবে কিছু দিন পরেই সীমনা প্রাচীরের তাঁরকাটা উধাও হয়ে যায়। সীমানা বলতে এখন শুধু খুঁটিই অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ভবনের পিছন থেকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ডান পাশ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল পর্যন্ত কোন স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নেই। এসুযোগে মাদকব্যবসায়ীরা ক্যাম্পাসের পেছনের এ অংশটিকে কেন্দ্র করে তাদের ব্যবসায় পরিচালনা করে এবং মাদকসেবীরাও এখানে নিরাপদে মাদক গ্রহণ করে।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, নিরাপত্তা কর্মীর সংকটের পাশাপাশি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার অপর্যাপ্ততা রয়েছে, যা আছে সেগুলোর অধিকাংশই সচল নয়। সে সুযোগে সন্ধ্যার পর অন্ধকার নামলেই সেখানে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেল সূত্রে জানা যায়, ৫০ একরের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নজরদারির জন্য ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা রয়েছে মাত্র ২৩ টি। এরমধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ১৭টি। আর ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার দৃশ্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য নেই কোন জনবল। এরমধ্যে সিসি ক্যামেরাগুলো অনেকদিন আগে স্থাপন করায় কারিগরি ত্রুটির কারণে বেশিরভাগ ক্যামেরারই রেকর্ড সংরক্ষিত হয় না বলে এক সূত্রে জানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন ২৩ জন এবং আনসার সদস্য রয়েছে মাত্র ২৯ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য এ সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী একবারেই অপ্রতুল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তেমন একটা ক্যাম্পাস এলাকায় নেই, এই সুযোগে বহিরাগতরা বিশেষ করে মাদকসেবীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকগ্রহণের অভ্যয়ারণ বানিয়েছে। ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মাঠ, লালন চত্বরসহ পেছনের অংশে নিয়মিত মাদকের আসর বসলেও কেউ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, সীমানা প্রাচীর এবং সিসি ক্যামেরা না থাকার সুযোগে মাদক ব্যবসায়ীসহ বহিরাগতদের উৎপাত বেড়েছে। অনতিবিলম্বে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ না করলে যেকোন সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ মার্চ কেন্দ্রীয় মাঠের পাশে নবনির্মিত পরিবহন মাঠে বহিরাগতদের হাতে হয়রানির শিকার হয় শিক্ষার্থী। এর আগের বছর ২৩ আগস্ট এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস অভ্যন্তরেই ছিনতাই এর শিকার হয়। এঘটনা গুলোতেও প্রশাসনের পক্ষ হতে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাতে কেউ মাদকাসক্ত না হয় তার জন্য আমরা নিয়মিত কাউন্সিলিং করে মাদক থেকে বিরত রাখার চেষ্ঠা চালাচ্ছি। ক্যাম্পাসে মাদকের আদান-প্রদান রোধে এবং মাদকের আসর বন্ধ করতে পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে পেছনের অংশে একটি নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হবে। সীমনাপ্রাচীর নির্মাণ এবং সিসি ক্যামেরা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :