কুবির অর্থ দপ্তরের পরিচালককে অব্যাহতি

নাজমুল সবুজ, কুবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৫০ PM, ০১ জুন ২০২১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কামাল উদ্দিন ভুইয়াকে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তিন সদ্যসের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (০১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের তাকে অব্যাহতি প্রদান এবং তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়,৪৬তম অর্থ কমিটির সভায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মোবাইল ও ইন্টারনেট ভাতা সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তের আলোকে ১ম থেকে ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত সুপারিশ করা হলেও কার্যবিবরণীতে ৫ম গ্রেড যুক্ত করা হয়। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তিনি নির্দেশ অমান্য করেন। অর্থ কমিটির একাধিক সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনের আলোকে গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ৪৬তম অর্থ কমিটির সভায় ১ম গ্রেড থেকে ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন ও ইনটারনেট ভাতা বাবদ ১৫০০ টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু সভার কার্যবিবরণীতে এ কর্মকর্তা ৫ম গ্রেডকেও ১০০০ টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত যুক্ত করে দেন এবং ডিসেম্বর মাস থেকে এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করেন। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এলে পুরো প্রক্রিয়াটিই বন্ধ রাখার জন্য মৌখিকভাবে এ কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়। কিন্তু একাধিকবার নির্দেশনা দেয়া হলেও তিনি তা না মেনে ভাতা দেয়া অব্যাহত রাখেন। এ ঘটনায় এ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়া ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: জাকির ছায়াদউল্লাহ খান, সদস্য সচিব বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড.জি.এম. মনিরুজ্জামান এবং সদস্য ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ মকছেদুর রহমান।

অর্থ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক. ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এফসি’র সভায় সিদ্ধান্ত হয়নি এমন বিষয় কার্যবিবরণীতে আসার বিষয়টি নজরে এলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ভাতা দেয়ার বিষয়টি কার্যকর না করে ইউজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু সে নির্দেশনা না মানায় অর্থ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে পদ হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রেজিস্ট্রার বলেন, ট্রেজারার মহোদয় অর্থ ও হিসাব দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মোবাইল ও ইন্টারনেট ভাতা সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিলে তিনি তা কার্যকর করেননি। এই কারণে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এবিষয়ে কামাল উদ্দিন ভুইয়া বলেন, অর্থ কমিটিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মোবাইল-ইন্টারনেট ভাতা প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিলো, আমি সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছি। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সঠিক ছিলো কিনা তা তদন্ত করতে একটা কমিটি করা হয়েছে। পদে রেখেতো তদন্ত করা যায় না এইজন্য আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :