ঢাকা, শুক্রবার, ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ক্যাম্পাস
  4. খেলা
  5. জবস
  6. জাতীয়
  7. তথ্যপ্রযুক্তি
  8. ধর্ম
  9. প্রচ্ছদ
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

কুবি শিক্ষার্থীদের বিজয়ের ভাবনা

প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, কুবি
ডিসেম্বর ১৬, ২০২২ ৫:৩৮ অপরাহ্ণ

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণে দীর্ঘ ২৫ বছরে বাঙালির অপরাধীনতার নিদারুণ যন্ত্রণার শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে পেয়েছিল মহান বিজয় দিবস। এইদিনে রমনা রেসকোর্স ময়দানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মসমর্পণ করেছিল হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী। বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের স্মৃতি বিজড়িত দিনের স্বাধীনতার জন্য বাঙালিকে দীর্ঘ সংগ্রামদীপ্ত পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন।
মুক্তিযুদ্ধে সময়কালে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিলেন তরুণরা। বরাবরের মতো এখনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সবক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে তারা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের অভিমত ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাছিবুল ইসলাম সবুজ।

বৈষম্যহীন নিরাপদ দেশ হোক

সুমাইয়া তাহসিন
অর্থনীতি বিভাগ,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে ৩০ লক্ষ প্রাণ আর এক লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন মানচিত্র। এদেশের কাছে ঠিক ৫১ বছর আগে এই দিনেই ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈনিক তাদের বিভৎস কুৎসিত মাথা নোয়ানো জয় স্বীকার করেছে । ৭১-র মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নানা হত্যা, ধ্বংস, ধর্ষণ, শাসন-শোষণের লোমহর্ষক ইতিহাসের পাতা উল্টালে বৃদ্ধার শার্টের নীচে দেখা যাবে বেয়নেটের দাগ, বারুদের গন্ধ। এখনও কেঁদে ওঠে জাহানারা ইমামের মতো মায়েরা! তবুও লক্ষ-লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বের বিনিময়ে আমরা পৃথিবীর বুকে দাগ কেটে লিখে দিলাম আরেকটি নাম বাংলাদেশ। ৭১-রে স্বাধীনতার পরই বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য শেষ হয়ে যায়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশে এখন আমাদের প্রয়োজন বৈষম্যহীন নিরাপদ দেশ। মাওলানা ভাসানীর চোখে দেখতে হবে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের ক্ষুদা একই। দেখতে হবে ধনী গরিবের জীবনের দাম সমান সমান অমূল্য। শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্প-সংস্কৃতি, নারী-পুরুষ সবকিছুর প্রতিটি ধাপে গেয়ে উঠতে হবে সাম্যের গান। পৃথিবীর বুকে হৃৎপিন্ডের মতো পুঁষলে উঠে জানিয়ে দিতে হবে বাংলার জয়।
”মুক্তিযোদ্ধের চেতনা হোক তারুণ্যের অনুপ্রেরণা”
সাদিয়া তাহিয়াত নিহা
লোক প্রশাসন বিভাগ,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
ডিসেম্বর ” এই শব্দটা শুনলেই যেনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটা লাল সবুজের পতাকা যার মধ্য জড়িয়ে আছে হাজারও বাঙালির জীবন ত্যাগ ইতিহাস যার বিনিময়ে পেয়েছি এক স্বাধীন দেশের স্বাধীন পতাকা। আর এই বিজয়,পতাকা সবকিছুর পিছনে রয়েছে লক্ষ শহীদের জীবন। এ যুদ্ধ ছিল আমাদের পরাধীনতা থেকে মুক্তির,অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের,মাতৃভাষায় কথা বলার জন্য লড়াই। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র যুদ্ধের পর আমরা পেয়েছি পৃথিবীর বুকে এক টুকরো মানচিত্র যার মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি নতুন পরিচয় এবং বাংলাদেশ নামে একটা স্বাধীন দেশ। আমাদের বর্তমান প্রজন্মের কর্তব্য মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা।
বিজয়ের পরিপূর্ণতা ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে
মো.আবদুল হালিম
নৃবিজ্ঞান বিভাগ,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
বিজয় দিবস মানেই বাঙালির প্রতিটা মানুষের হৃদয়ে বেজে ওঠে আনন্দের বিজয় ধ্বনি। বাঙালির হাজারো রজনী কেটেছে এমনি একটা কাঙ্ক্ষিত দিনের প্রত্যাশায়। সেই ১৯৭১ সালের ২৬ মাস থেকে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, দীর্ঘ ৯ মাস বাংলার দামাল ছেলে, কৃষক, জেলে,কামার-কুমার সহ আরো অনেকে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তাদের প্রানের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর ছিনিয়ে নিয়ে আসে বাংলার স্বাধীনতা। এই বিজয় দিবস যেমন উল্লাসের তেমন বেদনারও স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে ৩০ লক্ষ শহীদ তাদের প্রান দিয়েছেন ২ লাখ মা- বোনের সম্ভ্রম হারিয়েছে। বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় জাতি স্মরণ করবে জানা-অজানা সেসব শহীদের প্রতি যাদের আত্মত্যাগের ফলেই বাংলা পেয়েছিল পৃথিবীর বুকে এক টুকরো মানচিত্রে স্বাধীন দেশের খেতাব।
বিজয়ের অনুপ্রেরণায় হোক আগামীদিনের পথচলা…
খাদিজাতুল কোবরা।
রসায়ন বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
আমার কাছে ১৬ই ডিসেম্বর মানে,একটা শ্বাসরুদ্ধকর কালো অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। ২৫শে মার্চের নিস্তব্ধ কাল রাত্রির অন্ধকারের পর্দা ভেদ করা সুদীর্ঘ নয় মাসের দুঃস্বপ্নের অবসান। আমার কাছে ১৬ই ডিসেম্বর মানে অনুপ্রেরণা।এ বিজয় যা কিছু অন্যায়, অবিচার,শোষণ এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদের অনুপ্রেরণা। মুক্তির অনুপ্রেরণা, সকল অশুভ শক্তির সাথে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা। এই গৌরব-গাথা আমাদের পরাধীনতার শিকল ভেঙে ফেলার অপ্রতিরোধ্য শক্তি।

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ - ক্যাম্পাস