ক্যারিবীয়দের কাছে নাস্তানাবুদ টাইগাররা

স্পোর্টস ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৪৫ AM, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১

দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১১৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্যটা দাঁড়িয়েছিল ২৩১ রানের। উদ্বোধনী জুটিটে তামিম-সৌম্য তুলেছিলেন ৫৯ রান। আশা জেগেছিল জয়ের।

কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। ১৩, ১১, ২৬, ১৪, ১০, ২২ এগুলো সৌম্য, শান্ত মুমিনুল, মুশফিক মিঠুন, লিটনের স্কোর। প্রত্যেকে পৌঁছেছেন ডাবল ফিগারে। কিন্তু ধৈর্য্য ধরে ইনিংসটাকে বড় করতে পারলেন না কেউই। ফলাফল ১৭ রানের হার।

শেষ দিকে মিরাজ একাই লড়ছিলেন। কর্নওয়ালের দুই বলে পর পর ছয় ও চার মারেন তিনি। দলীয় স্কোরও দ্বিশতে পৌঁছায়। এক ওভার পর কর্নওয়াল বল করতে আসলে পুনরাবৃত্তি ঘটান মিরাজ। আবারও ৬ এবং ৪। শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইকে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। স্লিপে ক্যাচ দিলেন মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পেল ১৭ রানের।

প্রথম টেস্টে রেকর্ড টার্গেট দিয়েও বোলিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ হেরেছিল। আর দ্বিতীয় টেস্টে হারল ব্যাটিং ব্যার্থতায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বি-টিমের কাছে এমন হার নিয়ে ক্ষোভ টাইগার ভক্তদের মাঝে। টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনার পরামর্শ সবার।

চা-বিরতির আগে হঠাৎ ঝড়ে কিছুটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটি দারুণ শুরু এনে দেওয়ার পরও হঠাৎ ধসে পড়ে গেছে ৩ উইকেট। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের পর ফিরে যান তিনে নামা নাজমুল হোসেনও।

২৩১ রানের লক্ষ্যে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ কিছুটা নড়বড়ে ছিল। এরপর মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম ক্রিজে কিছুটা থিতু হওয়ায় আবার নড়েচড়ে বসেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। দুজনে মিলে বাংলাদেশের রান ১০০ পার করিয়ে নিয়ে গেছেন।

কিন্তু ১০০ পার হতেই আবার জোড়া ধাক্কা। ১৮ বলের মধ্যে আউট হয়ে গেছেন মুশফিক ও মোহাম্মদ মিঠুন। মুশফিক ১৪ রান করে আউট হয়ে গেছেন, নেমেই রাকিম কর্নওয়ালকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ডিপ স্কয়ার লেগে ছক্কা মেরে শুরু করা মিঠুন আউট হয়ে গেছেন ১০ রান করে।

এরপর আবার একই গল্প। লিটন ও মুমিনুল মিলে জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এবারও জোড়া ধাক্কা। ১৯ বলের মধ্যে আউট হয়ে গেলেন মুমিনুল ও লিটন। কর্নওয়ালের বলে ক্যাচ দিলেন লেগ স্লিপে। সেই কর্নওয়ালের বলেই কাট করতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিলেন লিটন।

মুশফিক আউট হওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের আরেকটি ক্ষতি হয়েছে, একটা রিভিউও নষ্ট হয়েছে। জোমেল ওয়ারিকানের বলটা উইকেটকিপার জশুয়া দা সিলভার হাতে ধরা পড়তেই ক্যাচ আউটের আবেদন করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা। আম্পায়ার আঙুল তুলে দেন। কিন্তু মুশফিক সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন। বল যখন মুশফিকের ব্যাটকে অতিক্রম করছিল, প্রায় সেই মুহূর্তেই মুশফিকের ব্যাট মাটিতেও আঘাত করে। সে কারণেই হয়তো মুশফিক ভেবেছিলেন, বলে নয়, ব্যাট মাটিতে লেগেছে বলেই আওয়াজ হয়েছে।

কিন্তু রিভিউ মুশফিকের জন্য দুঃসংবাদই নিয়ে এল। তাঁর ব্যাট মাটিতে লাগার আগেই বল ব্যাট অতিক্রম করেছে, এবং অতিক্রম করার সময়ে ব্যাট ছুঁয়েও গেছে। চা-বিরতির পর প্রায় ৯ ওভার একসঙ্গে ক্রিজে কাটিয়েছেন মুশফিক-মুমিনুল। দুজনে দেখেশুনেই খেলছিলেন। কিন্তু হঠাৎ মুশফিক আউট হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর চাপ আবার বেড়ে যায়।

চাপের মাত্রা দ্বিগুণ করে গেল মিঠুনের উইকেট। চা-বিরতির আগে নাজমুল হোসেন যেভাবে আউট হয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই কর্নওয়ালের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিঠুন।

চা-বিরতির আগে বাংলাদেশ যে ২১.৩ ওভার খেলেছে, তার মধ্যে আনন্দ-হতাশার বিপরীত দুই অভিজ্ঞতার সঙ্গেই পরিচয় হয়ে গেছে মুমিনুলদের। তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার উদ্বোধনী জুটিতে এনে দেন ৫৯ রান এনে দেন—১৪ ইনিংসে এই প্রথম বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি পঞ্চাশ রান পার করতে পারল! কিন্তু ১৩তম ওভারে বোলিংয়ে বদল এনে ম্যাচের ভাগ্যই বদলে দেন ব্রাথওয়েইট। ওই ওভারের প্রথম বলে সৌম্য ফিরলেন, তার ২৫ বল পর ব্রাথওয়েইটের বলেই ফিরলেন তামিম।

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৪৪ বলে ৯ চারে ফিফটিতে পৌঁছানো তামিম তো রীতিমতো ক্যাচ প্র্যাকটিস করিয়েছেন সিলি মিড-অফে! ফেরার মিছিলে এরপর যোগ দেন নাজমুল। উইকেট থেকে বাড়তি বাউন্স আদায় করে নিচ্ছেন রাকিম কর্নওয়াল, এই বাড়তি বাউন্সেরই শিকার নাজমুল ও মিঠুন।

আপনার মতামত লিখুন :