গবিতে ভিন্ন আঙ্গিকে চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব

সজল সিংহ,গবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৫৬ AM, ১৪ এপ্রিল ২০২১

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভিন্ন আঙ্গিকে চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব ১৪২৭ পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) বাংলা বছর ও বসন্তের শেষদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকালে কলা পাতায় পান্তা ও ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করে৷

ক্যাম্পাসের খেলার মাঠে রঙিন ঘুড়ি উড়িয়ে পুরাতন বছরের সকল দুঃখগুলোকে বিদায় জানান তারা। লাল, নীল ও হলুদ কাগজের নৌকা পানিতে ভাসিয়ে পুরনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। পরে ট্রান্সপোর্ট চত্বরে পান্তা পর্বের মধ্য দিয়ে আয়োজনের ইতি ঘটে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব ১৪২৭ এর আয়োজন প্রসঙ্গে ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইন্সস অনুষদের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান বলেন, ‘এ বছর করোনার কারণে সব আয়োজনেই জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে যেহেতু এটি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছর, সেহেতু যদি আমরা কিছুই না করি, তবে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। তাই সীমিত পরিসরে হলেও দূরত্ব বজায় রেখে, মাস্ক পরিধান করে আয়োজনটি সম্পূর্ণ করেছি।’

একই অনুষদের শিক্ষার্থী শুভঙ্কর চন্দ্র দে বলেন, ‘করোনা লগ্নে চৈত্র সংক্রান্তি আয়োজন ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। ঘুড়ি বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে প্রার্থনা করেছি—যেন বাঙালিরা মুক্ত বাতাসে বেড়াতে পারে। কাগজের নৌকায় ভাসিয়ে দিয়েছি বছরের জরাজীর্ণতা ও মনের সকল সংকীর্ণতা। পরে গাছ তলায় পান্তা ও আলো ভর্তা খেয়েছি। আমাদের মনে ছিল বাঙালিয়ানাকে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা।’

বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ শিক্ষার্থী আসাদুর রহমান বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীরাও সাংস্কৃতির চর্চা করে এবং বাঙালির ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। তা নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবিদার। আজ আমিও এর স্বাক্ষী হলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভরদুপুরের আড্ডায় উঠে আসে মুক্ত কল্পনা ও ছন্দ গানের খেলা। ঝরা-ক্লেশ জর্জরিত বিশ্বে বাঙ্গালির উদ্যমশীলতার প্রতীক হোক চৈত্র সংক্রান্তির এ আয়োজন।’

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সাংস্কৃতি চর্চায় এই ক্যাম্পাসের সুনাম অনেক দূরে এগিয়ে যাবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :