গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কুবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

নাজমুল সবুজ, কুবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:48 PM, 16 October 2021

দেশের ২০টি সাধারণ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ১৭ অক্টোবর (রোববার) অনুষ্ঠিত হচ্ছে সমন্বিত গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘এ’ ইউনিটের এ ভর্তি পরীক্ষায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কু্বি) ৭ হাজার ২৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হবে।

গুচ্ছপদ্ধতিতে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে এরমধ্যে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এ ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি এ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয় স্বতন্ত্রতা হারিয়েছে এবং ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যে আমেজ তৈরী হতো তা নষ্ট হয়েছে।

এই শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনের বিপরীতে লড়ছেন ১০ জন শিক্ষার্থী। কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি সূত্রে জানা যায়, এবার বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগসহ তিনটি ইউনিটে রয়েছে মোট ২২ হাজার ১৩টি আসন। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন দুই লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে এক লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

তবে এ পদ্ধতির পরীক্ষা নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের মধ্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে একটা উৎসবের আমেজ থাকতো। এর আগে প্রতিবছর ৬০-৭০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হতো। সে তুলনায় এবার মাত্র ৭০০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। এছাড়াও গুচ্ছতে একসাথে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থাকা মেধাবী শিক্ষার্থী পাওয়ার সম্ভাবনাও কম।

এনিয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার সময় যে আমেজ দেখা যায় এবার গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কারনে তা একেবারেই অনুপস্থিত।
আর সব চেয়ে বড় কথা হলো গুচ্ছ পদ্ধতিতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিলে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র‍্য বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যাবে ধীরে ধীরে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতির এ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃত্ব কমেছে, সব কিছু কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব বেশি কিছু করার নেই। অন্যবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কুমিল্লা নগরীর প্রায় ২০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র থাকলেও এবার শুধু বিশ্ববিদ্যালয়েই পরীক্ষা হবে।

এছাড়াও ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর তৎপরতা থাকে। এবার পরীক্ষার্থী কম থাকায় এবং দুরবর্তী অঞ্চল গুলোর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় তাদের কার্যক্রমেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সম্মিলিত আঞ্চলিক জোটের সমন্বয়ক ও কক্সবাজার স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি ওসমান ফারুক বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তির কারণে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় গুলো তাদের স্বতন্ত্রতা হারিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় উৎসবমুখর পরিবেশ হারিয়েছে। যেহেতু দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা হবে, তাই আঞ্চলিক সংগঠন গুলোর ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে তেমন কার্যক্রম নেই,সংগঠনগুলোও তাদের উৎসাহ উদ্দীপনা অনেকটা হারিয়ে ফেলেছে। তবে সম্মিলিত আঞ্চলিক জোট সবার পক্ষ থেকে বুথ স্থাপন করবে।

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামীমুল ইসলাম বলেন, ভর্তিচ্ছুদের দুর্ভোগ লাগবে এখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতক্ষ্য নির্দেশনা ছিলো। একটি প্ল্যাটফর্মে কিভাবে পরীক্ষা নেওয়া যায়। এবার যেহেতু করোনার প্রেক্ষাপটও ছিল সে বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নিয়ে আমাদেরও নানা উদ্বেগ-উৎকন্ঠা আছে। তারপরও এখন পর্যন্ত প্রক্রিয়া যেভাবে এগিয়েছে ঠিক আছে বলে মনে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘এটি একটি সরকারী সিদ্ধান্ত। মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ইউজিসির সিদ্ধান্তে এটা করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে। এটা তো আমাদের একার সিদ্ধান্ত না।’

আপনার মতামত লিখুন :