চট্টগ্রামের ছাত্র সমাবেশে শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নির্মাণে সংগ্রামের ডাক

ডেস্ক রির্পোটার
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:২৬ PM, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগি মোড়ে মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে “শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নির্মাণে ঐক্যবদ্ধ হোন” এই ডাকে ৮ দফা দাবিতে ছাত্র গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এ্যানি চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক শাহ মোহাম্মদ শিহাবের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন চট্টগ্রামের সংগঠক তিতাস চাকমা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলা সংসদের যুগ্ম আহবায়ক শাহরিয়ার রাফি, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন চট্টগ্রাম এর যুগ্ম আহবায়ক সাইফুর রূদ্র, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সংগঠক আবিদ ইসলাম।

সমাবেশে সংহতি জানান, পাটকল রক্ষায় শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য’র সদস্য সচিব শ্রমিকনেতা কামাল উদ্দিন, সাবেক ছাত্র নেতা সামিউল আলম রিচি, সত্যজিৎ বিশ্বাস, নাজিম উদ্দিন বাপ্পি, নাহিদ মুস্তফা প্রমুখ।

সমাবেশে ছাত্রনেতারা বলেন, ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আইয়ুব খানের শাসনামলে চাপিয়ে দেয়া “টাকা যার শিক্ষা তার” এই নীতির বিরুদ্ধে ছাত্ররা জীবন বাজি রেখে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল এবং সফল হয়েছিল। সে আন্দোলনে শাসকগোষ্ঠীর গুলিতে জীবন হারিয়েছিল মোস্তফা ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুল প্রমুখ ছাত্র নেতারা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও একই পরিস্থিতি এখনো বিদ্যমান। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ নির্দেশিত ইউজিসির কৌশলপত্র প্রতিনিয়ত শিক্ষা ব্যবস্থা সংকোচিত ও বানিজ্যিকীকরণ করছে।

সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, বিগত ৫৪৩ দিন ধরে করোনার অজুহাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এত দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নজির পৃথিবীতে বিরল। যার ফলে ঝরে পড়েছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। তাদের বেশিরভাগ শ্রমিক মেহনতি দরিদ্র মানুষের সন্তান। অসংখ্য শিক্ষার্থী বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে। এছাড়াও বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী বেতন ফি সহ যাবতীয় শিক্ষা খরচ বইতে না পেরে ঝরে পড়বে বলে আশঙ্কা করছি। অবিলম্বে সরকারি খরচে ভর্তুকির ব্যবস্থা করে তাদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরাতে হবে।

এছাড়াও সমাবেশে বক্তারা বলেন, আজও পাহাড় ও সমতলে অসংখ্য জাতিসত্তার সন্তানেরা তাদের মায়ের ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। এসকল শিশুদের মায়ের ভাষায় শিক্ষার অধিকার দিতে হবে।

এসময় ছাত্রনেতারা বলেন, সারাদেশের শিক্ষাঙ্গনগুলো আজ এক ফ্যাসিবাদী কারাগারে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগের গণরুম, টর্চার সেল, গেস্টরুম কালচারে সয়লাব। অচিরেই এ সমস্ত নিপীড়নযন্ত্র বন্ধ করতে হবে এবং অতীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংঘটিত আবু বকর-যুবায়ের-আবরার হত্যা সহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এ্যানি চৌধুরি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান সংকট নিরসনে সরকারি ভর্তুকি দিয়ে করোনাকালীন সময়ে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে ফিরিয়ে আনা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেয়া, ইউজিসির কৌশলপত্র বাতিল সহ ৮ দফা দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে। নতুবা সারাদেশের ছাত্র সমাজকে ঐকবদ্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নির্মাণের জন্য জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে আন্দরকিল্লা মোড়ে শেষ হয়।

আপনার মতামত লিখুন :