জবিতে ক্লিন ক্যাম্পাস র‌্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

অনুপম মল্লিক আদিত্য, জবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  04:20 PM, 19 October 2021

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্লিন ক্যাম্পাস র‌্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবন চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

র‌্যালির উদ্বোধক ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

উপাচার্য বলেন, আমি এখানে যোগদান করার পর দেখলাম ক্যাম্পাসের যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা। এরপর আমি সবাইকে নিয়ে পুরো ক্যাম্পাসর আনাচে কানাচের ময়লা তৎক্ষণাৎ পরিষ্কারের নির্দেশনা দেই৷ আসলে আমরা বলি যে সবাই মিলে কাজ করবো, কিন্তু কাউকে দায়িত্ব না দেয়া হলে আসলে কাজ হয় না। এজন্য আমি সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে একটি কমিটি করে দেই।

তিনি আরো বলেন, দেড় বছর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিলো। এরপর এসেছে ডেঙ্গু। তখন আমাদের প্রক্টরিয়াল বডি সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রায় প্রতিদিন সকালে মশা নিধনের স্প্রে দেয়া ও বিকেলে ফগিং করা হয়েছে।

আমাদের একাডেমিক ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে অনেক পুরনো মোটরসাইকেল পড়ে রয়েছে, মালিক নেই। এছাড়া যার যার যেসব জিনিসপত্র দরকার নেই চেয়ার, টেবিল, লোহা লক্কর সব আমরা নিলামে তুলবো। সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে আমরা আমাদের কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখবো।

উপাচার্য আরো বলেন, আমরা সবাই মিলে চাইলেই ক্যাম্পাসটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখতে পারি। সেজন্য প্রয়োজন একটু অনুপ্রেরণা। আমাদের রোভার স্কাউটস, বিএনসিসি সহ সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা যদি এক ঘন্টা কাজ করে তাহলেই আমাদের ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন থাকবে। সেজন্য প্রয়োজন একটু পরিকল্পনা, আয়োজন করা তা যদি ২-৩ টা বিভাগ একসাথে করে করা যায় তাও হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্ল্যানিং এই দুইটি দপ্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রক্ষণাবেক্ষণের সে কাজ গুলো সেগুলো তাদের সাথে সমন্নয় করেই করতে হয়। আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ছাত্র শিক্ষক সবাইকে একসাথে হয়ে কাজ করতে হবে।

পরিবেশ উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুল কাদের বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি আমার টিম নিয়ে পুরো ক্যাম্পাসে ঘুরে দেখেছি। কোথায় কোথায় ময়লা-আবর্জনা জমে ছিল দেখেছি এবং কিভাবে সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা যায়, সমাধান করা যায় সেই চেষ্টা করেছি। আমাদের পুরো ক্যাম্পাসের জন্য মাত্র ৫ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছে। এই ৫ জনের পক্ষে আমাদের পুরো ক্যাম্পাসের যাবতীয় ময়লা, যেগুলো সারাদিনে জমা হয় তা পরিষ্কার করা অনেক কঠিন। বিভিন্ন বিভাগে, দপ্তরে যারা কাজ করেন তারা নিচেই ময়লা রেখে চলে যান। তারা কাজ করে সকাল ৮ টা থেলে দুপুর ২ টা পর্যন্ত। একজন মাত্র দায়িত্বে থাকে পুরো ক্যাম্পাসের ময়লা বাইরে নিয়ে ফেলার। তার একার পক্ষে তো সম্ভব না। জনবলের যে অভাব তার জন্য সুষ্ঠুভাবে কাজ করা সম্ভবও না।

তিনি বলেন, আমরা যে রাস্তাটা দিয়ে হাঁটি সেই রাস্তায় ময়লা না ফেলে যদি ডাস্টবিনে ফেলি তাহলেই কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই মিলে যদি সহযোগিতা করেন, সচেতনতা সৃষ্টি করেন তাহলেই আমাদের ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে।

পরিবেশ উন্নয়ন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কমিটি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আহবায়ক এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ। এসময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ নূরে আলম আব্দুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম, প্রক্টর সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী রেজিস্ট্রার জনাব কামাল হোসেন সরকার।

আপনার মতামত লিখুন :