জবিতে ছাত্রী ওঠার আগেই বিনষ্ট হলের আসবাবপত্র

রকি আহমেদ,জবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:২০ PM, ১৮ এপ্রিল ২০২১

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী হল বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল। বাংলাবাজারে ২০১৩ সাল থেকে নির্মাণাধীন ১৬ তলার ১ হাজার আসন বিশিষ্ট এ হলের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি এখনও। তাই তোলা হয়নি ছাত্রী। তবে কাজ শেষ করার পূর্বেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান উদ্বোধক হিসেবে নিজের নাম লাগাতে উপাচার্য মেয়াদকাল শেষ হওয়ার আগে গতবছর ২০ অক্টোবর উদ্বোধন করেন হলটি। সিদ্ধান্ত হয় ক্যাম্পাস খুললে তোলা হবে ছাত্রী। বর্তমানে চলছে হল পুরোপুরি প্রস্তুতির কাজ। কিন্তু হলে ছাত্রী উঠার আগেই ছাত্রীদের থাকার জন্য ব্যবহৃত অনেক চৌকি(খাট) ও অন্যান্য আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। নিম্নমানের আসবাবপত্র কেনা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ওপর থেকে ১৬-৭ তলা পর্যন্ত চৌকির কাঠে ঘুনে ধরে সেগুলোর অধিকাংশ দুর্বল প্রায়। কোন কোন চৌকির কাঠ উঠে গেছে ও ভেঙ্গে গেছে। আর কাঠগুলো নিম্নমানের হওয়ায় চৌকির অধিকাংশ কাঠই ফাটা। কোন কোন চৌকির পায়া গিয়েছে ভেঙ্গে। পায়া ভাঙাগুলো স্টোর রুমে রাখা হয়েছে। কিন্তু ভবনের নিচ থেকে প্রথম ৬ তলার চৌকি ভালো থাকতে দেখা যায়। এগুলোর কাঠের মান ভালো হওয়ায় ঘুনে ধরা, ভেঙ্গে পড়া বা ফাটা কাঠ দেখা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র থেকে জানা যায় পরিদর্শকদের চোখ এড়াতে প্রথম ৫-৬ তলার আসবাবপত্রগুলোর মান ঠিক রাখা হয়েছে।

জানা যায়, হলটির আসবাবপত্র কেনা হয় বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফআইডিসি) থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরাসরি পদ্ধতিতে এ সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১ বছর আগে কেনা হয় খাটগুলো। কিন্তু ১ বছরের মধ্যেই এবং ছাত্রী উঠার আগেই এগুলো কিভাবে নষ্ট হয়ে যায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এ বিষয়ে হলের আসবাবপত্র ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের উপ-পরিচালক সৈয়দ আলী আহমেদ বলেন, আমরা ইতিমধ্যে কিছু চৌকিখাট ও আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে লক্ষ করেছি। এগুলো মিস্ত্রিরা কাজ করার সময় পানি ও ময়লা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে হয়তো। আমরা বিএফআইডিসিকে জানিয়েছি। তারা নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্রগুলো ঠিক করে দিবে।

মিস্ত্রিরা কাজ করায় হলের ১৬-৬ তলার চৌকি নষ্ট হয়েছে কিন্তু নিচের ৫ তলা নষ্ট হয়নি কেন? প্রশ্নে আলী আহমেদের কোন উত্তর মেলেনি। তিনি বলেন, টেন্ডার দিয়ে করালে কাজ অনেক সময় খারাপ হয়। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএফআইডিসি থেকে আসবাবপত্র কেনার পরামর্শ দেন সাবেক ভিসি (ড.মীজান)। আমরা এখনো সম্পূর্ণ পেমেন্ট করিনি। নষ্টগুলো তারা ঠিক করে দিবে।

এ বিষয়ে হলের প্রোভোস্ট ড. শামীমা বেগম বলেন, আমাকে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তবে চৌকি ও টেবিলসহ আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে দেখেছি। এখনই আপাতত কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। যখন আমার কাছে হল হস্তান্তর করে দিবে ছাত্রী তোলার আগে অবশ্যই সবকিছু দেখে শুনেই নিব।

আপনার মতামত লিখুন :