জাককানইবিতে বঙ্গবন্ধুর ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জাককানইবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:১১ PM, ১৫ অগাস্ট ২০২১

যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানাবিধ কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পালন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে পবিত্র কোরআন খতম, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানায় খাবার পরিবেশনসহ নানা কর্মসূচী।

দিবসটি উপলক্ষে রোববার (১৫ আগস্ট) সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপরে একটি শোক পদযাত্রা প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য’-এ গিয়ে শেষ হয় । বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে সেখানে ভাস্কর্যের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ কর্মসূচীতে নেতৃত্ব দেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান।
শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন কর্মসূচীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু নীল দল, কর্মকর্তা পরিষদ, কর্মচারী সমিতি, ডীন, হল প্রশাসন, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল, জাককানইবি শাখা ছাত্রলীগ, সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাবসহ অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর, প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোঃ সাহাবউদ্দিন, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী, কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল আহসান লিমনসহ অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু ও সাধারন সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীবৃন্দ।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। যাতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাস শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু বক্তব্য দেন।
বক্তব্যের শুরুতে মাননীয় উপাচার্য জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা না থাকলে আমরা কখনো স্বাধীনতার স্বাদ পেতাম না। তাঁর নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান এত যে বাংলাদেশের নাম বঙ্গবন্ধু রাখলেও তাঁর ঋণ কখনো শোধ হতো না।’
তিনি আরো বলেন, ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট রাতের অন্ধকারে নির্মমভাবে কিছু ঘাতক জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। এই একই ঘাতকচক্র ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট নির্মম গ্রেনেড হামলা করে। দুটি হামলাই একসূত্রে গাঁথা। এই ঘাতক ও তাদের মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করে বিচার করতে হবে।’
এরপরে দিবসটিকে কেন্দ্র করে বাদ যোহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এছাড়া আজ বিকেল সাড়ে চারটায় ‘সুবর্ণ স্বাধীনতায় মুজিবশতক: বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনলাইন মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে যাতে মূল বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন নগর গবেষণা ও কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রফেসর নজরুল ইসলাম। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ‘সুবর্ণ স্বাধীনতায় বাংলাদেশে মুজিববর্ষ ও শোকের মাসে স্মরণসভা’ শীর্ষ অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে যাতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এরপরে রাত নয়টায় অনলাইনে জাককানইবির সঙ্গীত বিভাগে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হবে আবৃত্তি ‘শোকের পঙ্কক্তিমালা’।

আপনার মতামত লিখুন :