জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, বোর্ডে শীর্ষে ঢাকা


  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:২৮ AM, ৩০ জানুয়ারী ২০২১

করোনাভাইরাস মহামারীকালে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হলেও সবাইকে পাস করিয়ে দেওয়া হবে- এমন ঘোষণা আগেই দিয়েছিল সরকার। ফলে পাশ নিয়ে কারো চিন্তা ছিল না। তবে দুশ্চিন্তা ছিল জিপিএ-৫ পাওয়া নিয়ে। কিন্তু সবকিছু পেছনে ফেলে এবার রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এমনকি জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাননি এমন ১৭ হাজার ৪৩ জন শিক্ষার্থী এবার এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় পূর্বের পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন করে সবাইকে পাস করিয়ে প্রকাশিত হয়েছে এইচএসি ও সমমানের ফলাফল। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফল প্রকাশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে একযোগে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণার উদ্বোধন করেন। পরে, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

প্রকাশ করা ফলাফলে দেখা যায়, এবার ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন; যা ২০১৯ সালের তুলনায় তিনগুণ বেশি। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল মাত্র ৪৭ হাজার ২৮৬ জন এবং তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে ২৯ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-প পেয়েছিলেন। শতকরা হিসেবে ২০২০ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট পরীক্ষার্থীর ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর ২০১৯ সালে যা ছিল মোট পরীক্ষার্থীর ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এছাড়া, ২০১৯ সালে মোট পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে ছেলেদের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে মেয়েরা। ৭৮ হাজার ৪৬৯ জন ছেলের বিপরীতে ৮৩ হাজার ৩৩৮ জন মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। সে হিসেবে ছেলেদের থেকে চার হাজার ৮৬৯ জন বেশি মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
আর সব বোর্ডের মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এবার ঢাকা বোর্ডে ৫৭ হাজার ৯২৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এরপরই আছে রাজশাহী। ওই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬ হাজার ৫৬৮ জন। এছাড়া, কুমিল্লায় নয় হাজার ৩৬৪, যশোরে ১২ হাজার ৮৯২, চট্টগ্রামে ১২ হাজার ১৪৩, বরিশালে পাঁচ হাজার ৫৬৮, সিলেটে ৪ হাজার ২৪২, দিনাজপুরে ১৪ হাজার ৮৭১ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডের ১০ হাজার ৪০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে চার হাজার ৪৮ এবং কারিগরি বোর্ড থেকে চার হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ পেয়েছেন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। গত বছরের ১ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করায় ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সরকার পরীক্ষা ছাড়াই মূল্যায়নের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমান শ্রেণির ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এক্ষেত্রে জেএসসির ফল থেকে ২৫ শতাংশ এবং এসএসসির ফল থেকে ৭৫ শতাংশ নিয়ে গড় করে এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরে ফেল করা শিক্ষার্থীরাও এবার পরীক্ষার্থী ছিল। তাদেরও পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে এবার শতভাগ পরীক্ষার্থীই পাশের মুখ দেখেছে।
কিন্তু আইনে পরীক্ষা না নিয়ে ফল প্রকাশ করা যাবে না- এমন নিয়ম থাকায় তা সংশোধনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। পরে, বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ছাড়াই ফল প্রকাশের বিধান যুক্ত করে গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদে আইন সংশোধন করতে হয়।
মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) পরীক্ষা ছাড়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে সংসদে পাস হওয়া তিনটি সংশোধিত আইনের গেজেট জারি করা হয়। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তিনটি বিলে সম্মতি দেন। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বিল তিনটি আইনে পরিণত হয়।
সোমবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে ‘ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন-২০২১’, ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড (সংশোধন) আইন-২০২১’ ও ‘বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) আইন-২০২১’- এর গেজেট প্রকাশ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :