জীবনের মায়া ছেড়ে চাকরী নিশ্চিত করতে মরিয়া ওরা

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:০৫ PM, ২০ জুন ২০২১

আজকে উপাচার্য স্যার আমাদের সাথে কথা বলবেন বলে জানিয়েছিলেন কিন্তু তিনিসহ উপ-উপাচার্য ক্যাম্পাসে না আসায় আমরা কোষাধ্যক্ষের দ্বারস্থ হয়েছি। নিয়োগ হয় স্থায়ী করা হোক অথবা বাতিল করা হোক, কোন একটি সিদ্ধান্ত আমরা চাই। আমরা জীবনের মায়া করি না। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে রাজি আছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সুরাহা আসা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিযে যাবো। এমনটাই জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাবেক ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহানের শেষ কার্যদিবসে দেয়া নিয়োগ পাওয়া সেসকল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

চাকরী স্থায়ীকরণ ও দ্রুত যোগদানের দাবিতে গতকালের ন্যায় আজও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। আজ রবিবার (২০ জুন) আন্দোলনকারীদের দখলে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন। এ দিন সকাল ৯ টার দিকে তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে পূর্ব দিনে ঝুলানো তালা খুলে দেয়। কিন্তু ভবনে রুটিন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে না দেখে তিন ঘন্টার ব্যবধানে ফের তালা মেরে দেয়।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা দুপুর ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান আল আরিফকে অবরুদ্ধ করে রাখে। যদিও দুপুর ২ টার দিকে তাকে মুক্ত করে দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত, আন্দোলনকারীরা প্রশাসন ভবনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদরর বের করে দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান অব্যাহত রাখার খবর পাওয়া যায়। এই সময় ভেতরে আর কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় নি।
এ বিষয়ে আতিকুর রহমান সুমন বলেন, আমাদের নিয়োগ হয় স্থায়ী করা হোক অথবা বাতিল করা হোক, কোন একটি সিদ্ধান্ত আমরা চাই। আমরা জীবনের মায়া করি না।যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে রাজি আছি। তিনি আরো বলেন, উপাচার্য রুটিন দায়িত্বে থেকে সিন্ডিকেট সভা করতে পারলে আমাদের বিষয়ে সমাধান করতে পারবে না কেন?

রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, আমি তাদের বলেছিলাম দেখা করবো। কিন্তু আমি মানসিকভাবে কিছুটা আপসেট। তাই যাওয়া হয় নি। তবে তাদের দু-একজনকে বাসবভনে আসতে বলেছিলাম। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের যে দাবি সেটি তো আমার পক্ষে পূরন করা সম্ভব নয়। আমি গতকালই মন্ত্রণালয়কে তাদের বিষয়টি সমাধানের জন্য জানিয়েছি। তারা পদক্ষেপ না নিলে কিছু করার নাই।
এর পূর্বে,গতকাল শনিবার (১৯জুন) চাকরীতে যোগদানের দাবিতে প্রশাসন ভবন, সিনেট ভবন ও উপাচার্য বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে উতপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ফাইন্যান্স কমিটির সভা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত বুধবার (১৬ জুন) অ্যাডহকের ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া চাকরী স্থায়ী করতে শিক্ষা উপ-মন্ত্রী ব্যারিস্ট্যার মহিবুল হক চৌধুরী নওফেলের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিতভাবে নিয়োগ পাওয়া সেই ১৩৮ জনের প্রতিনিধি দল।
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘন্টা কথা বলেন তারা।  সাক্ষাৎ-এ তারা তাদের নিয়োগের বৈধতার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। শিক্ষা উপ-মন্ত্রীও তাদেরকে ইতিবাচক আশ্বাস দেন। তাদের এ বিষয়টি ভালোভাবে দেখার পাশাপাশি দ্রুত এর সমাধানকল্পে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলবেন বলেও জানান মন্ত্রী।

এরপূর্বে, (৩১ মে) সাবেক ভিসির দেয়া এ্যাডহকে নিয়োগপ্রাপ্তরা কেনও চাকরীতে যোগদান করতে পারবে না এবং তাদের যোগদানের স্থগিতাদেশ কোন ডকুমেন্টস রয়েছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখতে রুটিন দায়িত্বে থাকা ভিসি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়াসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিলো সেই নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

 

 

আপনার মতামত লিখুন :