ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পুলিশের ভাষ্য আত্মহত্যা, পরিবারের দাবি খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:০৭ PM, ২৪ মে ২০২১

নিখোঁজের আট দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মিলল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের মরদেহ। হাফিজ তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ও টিএসসি ভিত্তিক সংগঠন মাইম অ্যাকশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রোববার হাফিজকে শনাক্ত করে তার স্বজন ও সহপাঠীরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি তাদের। তবে পুলিশের ভাষ্য, ১৫ মে রাতে নিজের আত্মহত্যা করে। যদিও পরিবারের দাবি, খুন হতে পারে তাদের স্বজন।

ফেসবুকে কয়েকদিন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের নিখোঁজের সংবাদটি ঘুরছে। গত ১৫ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় এসেছিলেন হাফিজ। সেদিন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকা থেকে মায়ের সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। এ বিষয়ে কসবা থানায় সাধারণ ডায়েরী করে পরিবার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল মর্গে থাকা অজ্ঞাত এক মরদেহের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশনকে জানায় পুলিশ। পরে মর্গে গিয়ে সহপাঠীরা ও পরিবারের সদস্যরা অজ্ঞাত ওই মরদেহটি হাফিজের বলে শনাক্ত করে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ জানান, ১৫ মে রাতে ঢাকা মেডিকেলের বহির্বিভাগের সামনে এক তরুণ রক্তাক্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে রাত ১০টার দিকে মারা যায় সে। বিষয়টি তদন্ত করে তারা জানতে পারেন সেদিন হঠাৎ ভ্রাম্যমাণ ডাব বিক্রেতার দা দিয়ে নিজের গলায় নিজেই পোজ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে।

ওই ডাব বিক্রেতাকে খুঁজে বের করে ধারালো সেই দা উদ্ধার করে পুলিশ। তার বক্তব্যও নিয়েছে পুলিশ। ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার পরও তার মরহদে শনাক্ত না হওয়ায় অজ্ঞাত হিসেবে তাকে রাখা হয়ছিলো মর্গে। তবে, সহপাঠিরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পরিবার বলছে, এটি হত্যাকাণ্ডও হতে পারে। ফলে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তাদেরও।

এদিকে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে রোবরাত রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তার করা হয় হাফিজের মরদেহ। ঘটনার আগে তার সঙ্গে থাকা তার বন্ধুদের খুঁজছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন :