ঢাকা, শুক্রবার, ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ক্যাম্পাস
  4. খেলা
  5. জবস
  6. জাতীয়
  7. তথ্যপ্রযুক্তি
  8. ধর্ম
  9. প্রচ্ছদ
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

তারুণ্যের চোখে বিজয়ের ৫১ বছর

প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, কুবি
ডিসেম্বর ১৬, ২০২২ ৫:২২ অপরাহ্ণ

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণে দীর্ঘ ২৫ বছরে বাঙালির অপরাধীনতার নিদারুণ যন্ত্রণার শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে পেয়েছিল মহান বিজয় দিবস। এইদিনে রমনা রেসকোর্স ময়দানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মসমর্পণ করেছিল হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী। বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের স্মৃতি বিজড়িত দিনের স্বাধীনতার জন্য বাঙালিকে দীর্ঘ সংগ্রামদীপ্ত পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন।
মুক্তিযুদ্ধে সময়কালে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিলেন তরুণরা। বরাবরের মতো এখনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সবক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে তারা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের অভিমত ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাছিবুল ইসলাম সবুজ।

বিজয় মানে মুক্তি আর আনন্দের জয়ধ্বনি
মোসাঃ লামিয়া সুলতানা
নৃবিজ্ঞান বিভাগ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

করতে বিজয় অর্জন,
বাঙ্গালী দিয়েছিল শত বিসর্জন।
শত সহস্র বাধা আর নির্মম শোষণ,
আটকাতে পারেনি বাংলার স্বাধীনতা অর্জন।
হাজার শহিদ এর রক্তের বিনিময় অর্জিত বিজয়,
তরুন প্রজন্ম তোমাদের ই রাখতে হবে অক্ষয়।

বিজয় কথাটির সাথেই জড়িত আছে হাজারও ত্যাগ ও মহিমান্বিত রজনী আর স্বাধীনতা অর্জনের আনন্দ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে মর্যাদা লাভ করে। মাসটি বাঙালি জাতির জন্য আনন্দের এবং গর্বের। এই আনন্দের অভিব্যক্তি কখনো ভাষায় প্রকাম করা সম্ভব নয়।এই আনন্দ মুক্তির,এই আনন্দ অর্জনের,এই আনন্দ বিজয়ের।এই আনন্দ অর্জিত হয়েছে ৩০ লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়, হাজারো মা,বোন এর সম্ভ্রম এর বিনিময়।বিজয়ের অর্ধ শতক পার করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। হয়তো বিজয়ের একশত বছর উৎযাপনে আজকের আমাদের মধ্যে অনেকেই থাকবে না,তবে বিজয়ের উল্লাস থাকবে ঠিক ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর এর মতো। কিন্তু তার জন্য আমাদের কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বিজয়ের এই ইতিহাস অম্লান থাকে তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ দেওয়া শহিদ এর ইতিহাস সঠিক ভাবে জানাতে হবে পরবর্তী প্রজন্ম কে।দেশকে রক্ষা করতে হবে স্বাধীনতা বিরোধীর অপশক্তির হাত থেকে। তবেই শহিদের রক্তের বিনিময় অর্জিত বিজয় অম্লান থাকবে।

বিজয়ের মানে বাংলার প্রতাকার জয়জয়কার
তোফাজ্জল হোসেন তুহিন
অর্থনীতি বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

বিজয় দিবস মানেই বাঙালির প্রতিটা মানুষের হৃদয়ে বেজে ওঠে আনন্দের বিজয় ধ্বনি। বাঙালির হাজারো রজনী কেটেছে এমনি একটা কাঙ্ক্ষিত দিনের প্রত্যাশায়। সেই ১৯৭১ সালের ২৬ মাস থেকে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, দীর্ঘ ৯ মাস বাংলার দামাল ছেলে, কৃষক, জেলে,কামার-কুমার সহ আরো অনেকে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তাদের প্রানের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর ছিনিয়ে নিয়ে আসে বাংলার স্বাধীনতা। এই বিজয় দিবস যেমন উল্লাসের তেমন বেদনারও স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে ৩০ লক্ষ শহীদ তাদের প্রান দিয়েছেন ২ লাখ মা- বোনের সম্ভ্রম হারিয়েছে। বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতায় জাতি স্মরণ করবে জানা-অজানা সেসব শহীদের প্রতি যাদের আত্মত্যাগের ফলেই বাংলা পেয়েছিল পৃথিবীর বুকে এক টুকরো মানচিত্রে স্বাধীন দেশের খেতাব।

গৌরবময় বিজয়
জান্নাতুল হাসান প্রভাতী
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজয় মানে এক অন্য রকম শক্তি, পরাধীনতা থেকে মুক্তি।
প্রতিটি স্বাধীন জাতির স্বাধীনতার পিছনে রয়েছে নানান ত্যাগ – তিতিক্ষা ও আবেগ। তেমনি আমাদের বিজয় দিবসের প্রেক্ষাপটে রয়েছে ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস।১৯৭১ সালে ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার পর দীর্ঘ নয় মাস মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই দেশের মানুষ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে।এর ফলে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ,একটি নিজস্ব মানচিত্র ও পতাকা পেয়েছি। অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা এই বিজয় পেয়েছি। আর প্রত্যেক বছর সেই আত্মত্যাগী মানুষদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এই মহান বিজয় দিবসে। তাই বিজয় দিবসের এই চেতনাকে জাতীয় জীবনের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারলেই বিজয় দিবসের সত্যিকারের তাৎপর্য আমরা অনুধাবন করতে সক্ষম হব।
”মুক্তিযোদ্ধের চেতনা হোক তারুণ্যের অনুপ্রেরণা”
সাদিয়া তাহিয়াত নিহা
লোক প্রশাসন বিভাগ,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
ডিসেম্বর ” এই শব্দটা শুনলেই যেনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটা লাল সবুজের পতাকা যার মধ্য জড়িয়ে আছে হাজারও বাঙালির জীবন ত্যাগ ইতিহাস যার বিনিময়ে পেয়েছি এক স্বাধীন দেশের স্বাধীন পতাকা। আর এই বিজয়,পতাকা সবকিছুর পিছনে রয়েছে লক্ষ শহীদের জীবন। এ যুদ্ধ ছিল আমাদের পরাধীনতা থেকে মুক্তির,অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের,মাতৃভাষায় কথা বলার জন্য লড়াই। দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র যুদ্ধের পর আমরা পেয়েছি পৃথিবীর বুকে এক টুকরো মানচিত্র যার মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি নতুন পরিচয় এবং বাংলাদেশ নামে একটা স্বাধীন দেশ। আমাদের বর্তমান প্রজন্মের কর্তব্য মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা।
বিজয়ের আলোয় দীপ্তিময় হোক তরুণ সমাজ
মো. আল-আমিন
আইন বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
বিজয়ের আলোয় হোক বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণের শক্তির অনুপ্রেরণার উৎস। সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তারা দেশের জন্য নিজেকে আত্মনিয়োগে উদ্যেগী হবে। দেশের যুবক সমাজ বিজয়ের প্রেরণায় সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের সুনাম ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। তরুণদের সৎ কীর্তি কর্মের মাধ্যমে আমরা আমাদের বিজয়ের স্বার্থকতা লাভ করতে পারব। তাদের কাজের মাধ্যমেই ত্রিশ লক্ষ শহীন আর দুই লক্ষ বোনের সম্ভ্রমের স্বার্থকতা হবে। তরুণরাই পারবে আমাদের আগামীর সমাজকে আলোকিত করতে আর এর মূল শক্তির উৎস হবে বিজয়ের শক্তি।

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ - ক্যাম্পাস