ঢাকা, শুক্রবার, ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ক্যাম্পাস
  4. খেলা
  5. জবস
  6. জাতীয়
  7. তথ্যপ্রযুক্তি
  8. ধর্ম
  9. প্রচ্ছদ
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

দেড়শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে বরিশালের দুচালা ঘর

প্রতিবেদক
হাছিবুল ইসলাম সবুজ
জানুয়ারি ১২, ২০২৩ ৪:৪৫ অপরাহ্ণ

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা মাদবপুর ইউনিয়নের হাদিবাশঁ কাঠী গ্রামে দেখা মিলেছে বিখ্যাত এবং গ্রামীণ মানুষের নান্দনিক স্বাপত্য দুচালা টিনের ঘর। আজ থেকে প্রায় দেড়শত বছরের পুরনো এই স্থাপত্যটি ঐতিহ্য বহন করছেন বরিশালে যুগ যুগ ধরে। কাঠের চুল বারান্দায়, কাঠের কারুকাজ দুয়ে মিলে নজর কাড়া কাঠামে, দৃষ্টিকারের থাম দরজা-জানালার নকশাও। যুগ যুগ ধরে এমন টিন কাঠের বাড়িগুলো হয়ে উঠেছে এখানকারের ঐতিহ্য। এক সময় এর কদর ও চাহিদা এখানকার মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে বর্তমান সভ্যতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে এখানকার মানুষের চাহিদারও পরিবর্তন ঘটে।
সাধারন ঘরের মতো দেখতে হলেও এর নান্দনিক সৌন্দর্য ও বিশেষত্বের কারনে এখনো এই অঞ্চলে ক্ষুদ্র পরিসরে দেখা মিলছে । কেউ আবার নিজেদের ঐতিহ্যটি টিকিয়ে রাখার জন্য চর্চা করে যাচ্ছেন নিজেদের মধ্যে নতুন আঙ্গিকে।
দুচালা এই টিনের ঘর তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নতমানের নানান রকমের উপাদান সামগ্রী। ঘড়ের ছাউনিতে ব্যবহৃত করা হয়েছে উন্নতমানের টিন যার মেয়াদ একশত বছরেরও পুরনো হলেও বর্তমানের টিন থেকে অনেক মজবুত ও টেকশই। ঘরের খুটি এবং চৌকাঠে ব্যবহার করা হয়েছে লোহা কাঠের মতো গুণসম্পন্ন ও ক্ষয়হীন কাঠ। এছাড়াও ঘরের বেড়ার কাজে,জানালায়, ঘরের ছাউনিতে টিনের সাথে সেগুন ও মেহগনির মতো নানান রকম উন্নতমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। শক্ত, দৃঢ়, ভারি, টেকসই ও গুনগত দিক থেকে অনেক উন্নতমানের হওয়ায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই অঞ্চলের মানুষের কাছে।
খোজ নিয়ে জানা যায় ব্রিটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চলে প্রচলিত ছিল টিনের ঘর। ঐ সময়কাল থেকেই এখানকার মানুষের মধ্যে টিনের ঘর তৈরিতে আগ্রহ বাড়ে। সময়ের পালাবদল ও রুচির পরিবর্তনে একচালা টিনের ঘর থেকে রুপ নেয় দুচালা টিনের ঘরে। নান্দনিক সৌন্দর্য্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এখানকার মানুষের মাঝে। নিখুঁতহাতের কারুকার্য এবং নান্দনিক বিভিন্ন রং-বেরঙের রঙিন টিনে ছাপা হয়েছে টিনের দেয়াল এবং কক্ষগুলো। ঐ সময়ে এমন একটি ঘর তৈরিতে প্রায় ৪৫০০-৬৫০০ টাকার মতো ব্যয় হতো তবে বর্তমানে সেটি লাখ ছাড়িয়েছে।
ঘরের প্রবেশ পথের প্রধান দরজাসহ বিভিন্ন অংশে নানান রকমের খোদাই করা নকশা যা বহন করছে গ্রাম বাংলার বিভিন্ন ইতিহাসও ঐতিহ্যের ঘটনা। এছাড়া ও জানালাগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন কাঠের থামের নকশা। মূল ঘরের সাথে উপরে আরেকটি ঘর সংযুক্ত করে নাম দেওয়া হয় দুচালা টিনের ঘর। উপরের উঠার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে লোহা কাঠের সিড়ি। উপরের কক্ষগুলো তুলনামূলক ছোট হলেও এর সৌন্দর্য্য চোখে পড়বার মতো। ঘরের ভেতরেও ব্যবহার করা হয়েছে নানান রকমের কারুকার্যের নকশাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র সরঞ্জামাধি রাখার তাক।
বাড়ির একাদিক বয়জ্যেষ্ঠদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের এই ঐতিহ্য বাপ-দাদার সময়কালের। এই ঐতিহ্য নিজেদের মধ্যে বহন করছেন যুগ-যুগ ধরে। তবে বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক ও সভ্যতা উন্নয়নের ফলে এই শিল্পটি হুমকির মুখে পড়েছেন।
বাড়ির এক গৃহকর্তা এডভোকেট পঙ্কজ সিং(৮৫) বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যর আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। তাই তাদের মধ্যে থেকে পৈতৃক ঐতিহ্যটি হারিয়ে যাচ্ছে। এখন আর এই ধরনের ঘর নির্মান খুবই কম হয়। যা কিছু দেখা যাচ্ছে এর বেশিরভাগই আজ থেকে প্রায় শতবছরের পুরনো। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চলে টিনের ঘরে প্রচলন ছিল। তবে ঘরের সৌন্দর্য্য ঠিক রাখার জন্য মাঝে মাঝে মেরামতের প্রয়োজন পড়ে। তবে বর্তমান সময়ে এমন একটি ঘর তৈরি করতে প্রায় ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে কিন্তু আমার দাদার সময়কালে ৪৫০০-৬৫০০ টাকা হলে এমন একটি ঘর অনায়াসে নির্মান করা যেতো।
গ্রামে ঘুড়ে দেখা যায় আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে এই অঞ্চলের মানুষের মাঝেও। দুচালা এই টিনের ঘরের জায়গায় তৈরি হচ্ছে প্রাসাদসম অট্টালিকা আর স্থান দখল করে নিচ্ছে ইট-পাথরের বিলাসবহুল দালান। একটু সুখের আশায় মানুষ কত কিছুই না করছে। টিনের ঘরের শান্তি ইট পাথরের দালান কোঠায় খুঁজে পাওয়া ভার।

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ - ক্যাম্পাস

আপনার জন্য নির্বাচিত