নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদ নির্মাণে অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ

মুশফিকুর রহিম স্বপন , জাককানইবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৩৭ PM, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) গত ০৭ এপ্রিল ২০২১ শুরু হয় কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণ কাজ । ২৫২ বর্গমিটার এরিয়ায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের এই মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ১২ মাস । ইতোমধ্যেই নির্ধারিত সময়ের বেশিরভাগ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পিলার স্থাপনের কাজই শুরু করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমকোটি এনএইচই (জেভি) । অথচ শুধু পিলার তৈরী বাবদ প্রতিষ্ঠানটি তুলে নিয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা । প্রকৃত ব্যায়ের কয়েকগুণ খরচ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের যোগসাজশে এই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত জমির একপাশে কেবল চুক্তির সাইনবোর্ড ছাড়া মসজিদ প্রকল্পের পুরো অংশই ফাঁকা ! বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সহযোগিতায় নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ ছাড়াই অর্থ ছাড় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অর্থছাড়ের পর একাধিক অসৎ কর্মকর্তাকে ঠিকাদার কমিশন দেন। এমনকি অর্থ উত্তোলন নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তাদের কথাবার্তাতেও অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. নিজামুল বলেন, ‘করোনার কারণে আমরা নির্মাণকাজ দৃশ্যমান করতে পারিনি। তবে এ পর্যন্ত আমরা ৯৬টি পাইলিং পিলার করেছি। যার ব্যয় হিসেবে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার বেশি বিল নেওয়া হয়েছে। ’

ঠিকাদারের তথ্যমতে, প্রতি পাইলিং পিলার নির্মাণে খরচ হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৯১৭ টাকা। প্রতিটি পাইলিং পিলারের দৈর্ঘ্য ৯১ ফিট এবং প্রস্থ ১৬ ইঞ্চি। প্রতি পিলারে ২০ মিলি আটটি রড রয়েছে। পিলারের সংযোগ পয়েন্টে ১২ মিলির অতিরিক্ত ছয়টি ৫ ফিট করে রড ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকৃত মূল্যের কয়েকগুণ বেশি বিল করা হচ্ছে। সবই প্রশাসন জানে। এমনকি প্রশাসনের অনেকে বিলের কমিশন পান । মসজিদ আল্লাহর ঘর। এখানেও বাড়তি মূল্য দেখিয়ে অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে।
এবিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র মোঃ ইব্রাহিম খান বলেন, মসজিদের মতো প্রকল্প নিয়েও যারা দূর্নীতি করে তারা কখনোই মানুষ হতে পারে না। তিনি আরো বলেন বৃষ্টি এলে যে নামাজের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে সেটা কি কতৃপক্ষের চোখে পড়ে না।

এ বিষয়ে জাককানইবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে বারবার চাপ দেয়া হচ্ছে। অনিয়মের অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কমিটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ মিললে তা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।

আপনার মতামত লিখুন :