নরেদ্র মোদীর আগমন ঠেকাতে রাবিতে বিক্ষোভ

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৫৫ PM, ২৫ মার্চ ২০২১

স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী ও শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল ২৬ মার্চ (শুক্রবার) বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদির। তবে তার আগমনে বার্তায় দেশ জুড়েই চলছে আলোচনা-সমালোচনা। মোদীর আগমন ঠেকাতে ঢাকাতেও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোও তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা ও রাজশাহী, সিলেটসহ সারাদেশে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিকেল ৫টায় জোহা চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো।
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক মহাব্বত হোসেন মিলন এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রিদম শাহরিয়ার, বিল্পবী ছাত্র মৈত্রী রাবি শাখার সংগঠক শাকিল হোসেন,বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন রাবি শাখার সদস্য হাসান সরকারসহ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকারের গণবিরোধী কর্মকান্ডের সামান্যতম রাজনৈতিক বিরোধিতাও এই ফ্যাসিস্ট ও জালিম সরকার মেনে নিতে পারছেনা। মানুষের ন্যূনতম রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারকেও অস্বীকার করছে সরকার। নরেন্দ্র মোদীর মতো একজন সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানো, দাঙ্গাবাজ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে অতিথি করা স্বাধীনতার সম্পূর্ণ চেতনাবিরোধী। এর প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহ বিগত সময়ে নিয়মিতভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপী ঘোষিত এই কর্মসূচিতে এরূপ বাধা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক বলে অভিহিত করেন নেতৃবৃন্দ। তাঁরা আরো বলেন যে, সারাদেশের সচেতন মানুষের এই বিক্ষোভের মাঝেও নরেন্দ্র মোদীকে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির এই অনুষ্ঠানকে কলংকিত করলো এবং ইতিহাসের কলংকজনক অধ্যায় হিসেবেই তা থেকে যাবে। ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতায় জনগণ এভাবেই মনে রাখবে যে, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অন্যতম ভূমিকা রাখা আওয়ামী লীগ সরকার বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই কলংকিত করলো ভারতীয় আধিপত্যবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে এখানে আমন্ত্রণ করে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন যে, ভারতীয় সরকার ও ভারতীয় জনগণের কাছে মুক্তিযুদ্ধকালীন সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের জনগণ কৃতজ্ঞ বটে; কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সাম্প্রদায়িক বিভক্তিকে বাড়-বাড়ন্ত করে বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য করে ভারতীয় শাসকগোষ্ঠী এখনো বর্তমান সময়েও বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবেই থাকবে। বস্তুত, ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং জনগণকে সাম্প্রদায়িকভাবে বিভক্ত করার রাজনীতির বিরুদ্ধেই বর্তমান সময়ের নতুন মুক্তিযুদ্ধ। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সরকারের ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে বের হয়ে এসে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন যে, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এই দেশে যদি চরম প্রতিহিংসার পরিবেশ সৃষ্টি করে তাহলে সে দায়িত্ব সরকারের ওপরেই বর্তাবে।

আপনার মতামত লিখুন :