নান্দনিকতায় পরিপূর্ণ রাবির জিয়া হল

মামুন হোসাইন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:16 AM, 23 October 2021

মামুন হোসাইন, রাবি প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে অনেকটাই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হলগুলো। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুরু হয়েছে হল সংস্কারের কাজ। হলের অবকাঠামো এবং সেবার গুণগত মান বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলেও চলছে নানা সংষ্কারমূলক কাজ। নান্দনিকতা বাড়াতে নেয়া হয়েছে বেশকিছু উদ্যোগ।

জানা গেছে, নতুন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সুজন সেন যোগদানের পর থেকেই শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য আর অবকাঠামো উন্নয়নে নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। হল সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো সংস্কারের জন্য ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। এতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের জন্য এবার রেকর্ড পরিমাণ বাজেট দেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আবাসিক শিক্ষার্থীদের সহজেই বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হলের ভিতরের তিনটি ব্লকেই স্থাপন করা হয়েছে সাবমার্সিবল পাম্প। করোনা সংক্রমণ এড়াতে ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হল গেইটে স্থাপন করা হয়েছে হাত ধোয়ার বেসিন। টয়লেট ও ওয়াশরুমগুলতেও চলছে সংস্কারের কাজ। সেইসাথে বৈদ্যুতিক লাইন নতুন সংযোগ দেয়া হয়েছে। হলের ভেতের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে একটি কক্ষ।

এছাড়াও হলে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য হলেই নতুন করে করা হয়েছে ২ টি গেস্ট রুম। হলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের রাত্রি যাপনের জন্য চালু থাকবে রুম দুটি। ফলে আবাসিক হোটেলের চেয়ে কম খরচে রাত্রিযাপনের সুযোগ পাবেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের যেকোন সমস্যা বা মতামত জানাতে চালু করা হয়েছে একটি অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স। যেখানে নির্ভয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করতে পারবে।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য হলের অভ্যন্তরে ৮টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে আরও ৫৪টি ক্যামেরা স্থাপনের। হলের টিভিরুম, গেস্টরুম, ডাইনিং সহ পাবলিক স্পেস গুলোতে বসানো হবে এসব সিসিটিভি ক্যামেরা।

হলকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে ডাস্টবিন এবং সচেতনতামূলক বিলবোর্ড বসানো হয়েছে । হলের ডাইনিংরুমেও চলছে সংষ্কারের কাজ।

এছাড়াও হলে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নার এবং হল লাইব্রেরি। এছাড়াও তৃতীয় ব্লগের মাঝে ফাঁকা যায়গায় একটি মুক্ত মঞ্চ করারও প্রস্তুতি চলছে।

সার্বিক বিষয়ে কথা হয় হল প্রাধ্যক্ষ সুজন সেনের সাথে। তিনি বলেন, আমি যোগদানের পর থেকেই হলের বিভিন্ন সংষ্কারের কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের হলে বসবাস করতে যেন কোন অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছি।

তিনি আরো জানান, অনাবাসিক বা অবৈধভাবে কোন শিক্ষার্থীকে হলে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। ২৪ নবেম্বর থেকে হলে নতুন করে সিট বরাদ্দ দেওয়া হবে৷ সেখানে নতুনভাবে আবেদন করে হলে থাকার সুযোগ পাবে। তবে এবারের সিট বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং প্রতিবন্ধীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সুজন আরও বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই একটা শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চাই। এজন্য তাদের চাওয়া-পাওয়া ও অভিযোগ গুলোকে গুরুত্বের সাথে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাই।

আপনার মতামত লিখুন :