নিজেদের মাঠ দখলমুক্ত করতে জবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

অনুপম মল্লিক আদিত্য, জবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:২১ PM, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১

মার্কেট নির্মাণের উদ্দেশ্যে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ (ধূপখোলা মাঠ) দখল করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এরই প্রতিবাদে সদরঘাটগামী সড়ক অবরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে প্রথমে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে স্লোগান দিতে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে তারা। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে সদরঘাটগামী সড়কের উপর সকলে একত্রিত হয়ে রাস্তা অবরোধ করে স্লোগান দিতে থাকে। এতে বন্ধ হয়ে যায় গাড়ি চলাচল। পুলিশ এসে বাধা প্রদান করলেও তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। এরপর তারা প্রায় ১ ঘন্টার পর পুলিশের অনুরোধে কর্মসূচি সমাপ্ত করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল দলের সদস্য আসাদুজ্জামান রাজু বলেন, মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে না লিখে দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে বিকালে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভলিবল দলের সদস্য আন্তাজ হেনা আঁখি বলেন, মাঠ আমাদের। প্রকল্পের নামে আমাদের মাঠ ছিনিয়ে নেওয়া চলবে না। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমাদের মাঠ ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আজ আমরা পুলিশের অনুরোধে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। তবে আমাদের মাঠ বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে সিটি করপোরেশনের কাজ বন্ধ করার দাবিতে শিক্ষার্থীর সড়ক অবরোধ করেছে। থানা থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল আমাদের সঙ্গে। পরে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।

জানা যায়, রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ধূপখোলা মাঠের জবি অংশের সীমানাপ্রাচীর তুলে ফেলে মাঠের সংস্কারের দায়িত্বে থাকা ডিএসসিসির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। দিনের বেলায় কাজ বন্ধ রাখলেও রাতের আঁধারে চলে খনন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, ধূপখোলা মাঠটি একটি মেগা প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। মাঠটিতে নির্মাণ করা হবে একটি বহুতল বাণিজ্যিক মার্কেট, পাশে একটি খেলার মাঠ, হাঁটার জন্য রাস্তা, ক্যাফেটেরিয়া ও পার্কিং লট।

এর আগে চলতি বছরের ১০ জুন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা ও সিটি কর্পোরেশনর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হরিদাস মল্লিক মাঠের ভেতর ম্যাপ অনুযায়ী চার কোণায় খুঁটি বসান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে না জানিয়ে মাঠের মধ্যে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনার বিষয়টি নজরে আসার পর পরই ক্ষোভ প্রকাশ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গেন্ডারিয়া থানায় একটি জিডি করে। আলোচনায় বসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সাথেও। তারপরও বন্ধ হয়নি মেগা প্রজেক্টের নামে খেলার মাঠ দখলের এই কার্যক্রম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় অবস্থিত ধুপখোলা মাঠটি ১৯৮৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ জগন্নাথ কলেজের শিক্ষার্থীদের খেলার কোনো মাঠ না থাকায় ৭ একর জমির উপর অবস্থিত মাঠটি তিন ভাগে ভাগ করেন। এক ভাগ তৎকালীন সরকারি জগন্নাথ কলেজকে ব্যবহারের মৌখিক অনুমতি প্রদান করেন। আর একটি অংশ ‘ইস্ট এন্ড খেলার মাঠ’ নামে একটি ক্লাবের কর্তৃত্বে রয়েছে। অপর অংশটি রাখা হয় জনসাধারণ খেলার জন্য। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য এটাই একমাত্র খেলার মাঠ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও স্থানীয় শিশুকিশোররাও এই মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা করে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে হলেও প্রতিবছর খেলাধুলা বিষয়ক বিভিন্ন আয়োজন এই মাঠেই করে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র সমাবর্তনও এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

আপনার মতামত লিখুন :