নোবিপ্রবির একাডেমিক ভবনের কাজ চলছে ঢিমেতালে, ক্ষোভ!

বিডি ক্যাম্পাস ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৫১ PM, ১২ জুন ২০২১

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সর্ববৃহৎ ১০তলা একাডেমিক-৩ ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে মন্তর গতিতে। কাজে নেই কোন ধরনের উৎসাহ। ঢিমেতালে কাজ চলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষোভ। সকলেই এই কাজের অগ্রগতি দেখতে চান। কিন্তু দলীয় প্রভাবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ করছে অত্যান্ত মন্তর গতিতে। এখনো ৮০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখন মুখ খুলছেন অনেকেই।

জানাযায়, বহুতল এ ভবনটির টেন্ডার আহ্বান করে ২০১৮ সালের এপ্রিলে। জি কে স্বপনের একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পটির কাজ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৩০ মাস সময় বেঁধে দিলেও ৩৭ মাস পার করেও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি দ্বিতীয় মেয়াদে সময় বৃদ্ধি করার পর এখন পর্যন্ত ভবনের দুই তলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন করে তৃতীয় তলার আংশিক কাজ শুরু হয়েছে।

তবে এমন বিলম্বিত হওয়ার জন্য শ্রমিকদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন প্রকল্পটির তদারক আবু মুসা ফাতহুলবারী টুটুল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য যেসকল সামগ্রী ক্রয় করতে হয় তার জন্য ব্যাংক থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে পারফরমেন্স গ্যারান্টি নিতে হয়।

পরবর্তীতে উক্ত পারফরমেন্স গ্যারান্টি দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশল দপ্তর থেকে বিল নিতে হয়। কিন্তু বর্তমান প্রকল্পটির পারফরমেন্স গ্যারান্টির মেয়াদ কয়েকমাস আগে শেষ হলেও এখন পর্যন্ত নতুনভাবে ব্যাংক থেকে পারফরমেন্স গ্যারান্টি নেয়নি প্রকল্পটির ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান। যতদিন পর্যন্ত ব্যাংক থেকে পারফরমেন্স গ্যারান্টি না নিবে ততদিন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য বিল নিতে পারবেনা প্রতিষ্ঠানটি।

আরও জানা গেছে, নতুনভাবে বিল না নিতে পারায় ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠান। যার ফলে দীর্ঘদিন যাবত এমনভাবে কাজ অগ্রসর হচ্ছে যেটিকে বন্ধ বললেই চলে। এমনকি কয়েক লাখ টাকার সিমেন্ট ও রড অযত্নে পড়ে আছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এগুলো কাজে লাগাতে না পারলে জিনিসপত্রের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দুই তলার কাজ আংশিক সম্পন্ন হলেও সেটি অপূর্ণাঙ্গ এবং তিন তলার কাজ কিছুটা করা হলেও হাতেগোনা কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে কোন ভাবে চলছে প্রকল্পটি। আবার শ্রমিকের অভাবে বন্ধ থাকতে দেখা যায় নির্মাণ কাজ। জানা যায়, মূল প্রকল্পের ঠিকাদারি জিকেবিএল (জে.ভি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিলেও প্রকল্পের ইনচার্জ মইনুদ্দিন চৌধুরীর সাথে এখন পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি প্রতিষ্ঠানটির মালিক জিকে স্বপন।

বিলম্বিত হওয়া প্রকল্পের সার্বিক অবস্থা নিয়ে জানতে চাইলে আবু মুসা ফাতহুলবারী টুটুল ক্যাম্পাসলাইভকে জানান,করোনার পূর্ব পর্যন্ত কাজ ঠিকমত চললেও করোনার পরবর্তীতে কাজ খুবই ধীরে চলছে। কাজের ধীরগতির জন্য তিনি শ্রমিকদের অনুপস্থিতিকে দায়ী করেন।

শ্রমিকরা কেন অনুপস্থিত এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, করোনা শুরু হওয়ার পর তারা বাড়িতে চলে গেছে এখনো তারা ফিরে আসেনি তারা আসলেই কাজগুলো খুব দ্রুত অগ্রসর হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প ম্যানেজার মোহাম্মদ আরিফ ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, নোবিপ্রবির প্রকল্পটির জন্য খুব শিগগিরই হেড অফিসে মিটিং করবেন। এছাড়া খুব শিগগিরই নতুনভাবে কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী জিয়াউদ্দিন হায়দার ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, আমরা কাজ শুরু করার জন্য প্রকল্পের সাথে বারবার যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের প্রতিবার আশ্বাস দিয়েও কাজ শুরু করেনি। গত কয়েকদিন আগে ফার্মের কাছে অফিসিয়াল নোটিশ দিয়েছি সেই নোটিশের ফলাফল এখনো আমাদের নিকট পৌঁছায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ দিদার-উল-আলম এ বিষয়ে ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, প্রকল্পটি নিয়ে আমাদের কাছে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আমরা বিভিন্ন মেয়াদে সময় বেঁধে দিয়েও এখন কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি পাইনি।

আমরা প্রস্তাব করেছি তারা যদি কাজ করতে না পারে তাদের পরিচিত অন্য প্রকল্পের কাছে হস্তান্তর করে দিতে এবং বর্তমানে যে ৩তলা নির্মাণ করা হয়েছে এটি ক্লাসরুমের জন্য প্রস্তুত করে দেওয়ার জন্য। দুটি প্রস্তাবের কোনো প্রস্তাবে তারা সাড়া দেয়নি। এছাড়া কাজটি দ্রুত শুরু করতে বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করেছেন বলে জানান ভিসি প্রফেসর দিদার-উল-আলম।

আপনার মতামত লিখুন :