ফেল করেও ভর্তি, পিতৃ কোটায় হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক!

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:২১ PM, ১০ জুন ২০২১

গত ৬ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক ভিসি এম আবদুস সোবহানের শেষ কর্ম দিবসে অবৈধভাবে ১৩৮জন নিয়োগ পেয়েছে। মেয়াদের শেষদিনে অ্যাডহকে নিয়োগ দেয়া হয় ৯ জন শিক্ষককেও।

নিয়োগ সংক্রান্ত তালিকায় থেকে জানা গেছে, শিক্ষক পদে ৯ জন, কর্মকর্তা পদে ১৯ জন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পদে ৮৫ জন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে ২৪ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
শিক্ষক পদে ৯ জন:
শিক্ষক পদে ৯ জনের মধ্যে একজনকে সহযোগী অধ্যাপক ও আটজন প্রভাষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

প্রভাষক পদে আটজন হলেন-ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ইন্দ্রনীল মিশ্র, ফিশারিজ বিভাগে তাসকিন পারভেজ, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সে ড. শাহরিয়ার মাহবুব, সংগীত বিভাগে ঋত্বিক মাহমুদ, ইতিহাস বিভাগে কামরুজ্জামান, আরবি বিভাগে ড. এ কে এম মুস্তাফিজুর রহমান, সমাজকর্ম বিভাগে আফজাল হোসেন এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগে আসাদুজ্জামান।

নিয়োগ পাওয়া বাকী ৭ জনের মধ্যে ৪ জনই শিক্ষক পরিবারের। কেউ শিক্ষকের ছেলে, কেউ স্ত্রী কেউবা আবার শিক্ষকের জামাতা।

এদের মধ্যে একজন ইন্দ্রনীল মিশ্র। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তার পিতার নাম অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন মিশ্র। যিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন সিনিয়র অধ্যাপক। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের সঙ্গে অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন মিশ্রের গভীর সখ্যতা ছিল। এছাড়াও ‘অবৈধভাবে’ শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়া ইন্দ্রনীল মিশ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় চান্স না পেলেও ‘ওয়ার্ড কোটায়’ ভর্তি হয়েছিলেন।
জানা গেছে, ইন্দ্রনীল মিশ্র অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি অর্জন করতে পারেননি। বরং দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়ে যে ১৪ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন, তার মধ্যে তিনি মেধাক্রম অনুযায়ী রয়েছেন দশম স্থানে। শুধু তাই নয়, তিনিই একমাত্র ছাত্র যিনি অনার্সের  কোর্স-৪০৩ এ ফেল করেছিলেন। পরে আবার পরীক্ষা দিয়ে ওই বিষয়ে পাস করেন।
এমন একজন ছাত্রকে বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্বয়ং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এমদাদুল হক। তিনি বলেন, বিভাগে নিয়োগের জন্য সার্কুলার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সার্কুলারের ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষা না নিয়েই একজন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলো যিনি কোনোভাবেই শিক্ষক পদে কাম্য নন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছে। যদি এটা বাতিল হয়, তবে বিভাগের জন্য যেমন মঙ্গল হবে, সেটা বিশ্ববিদ্যালয় জন্যও মঙ্গল হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক বলছেন, যার বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র প্রফেসর, মাসিক বেতন পান সবমিলিয়ে দেড় লাখের কাছাকাছি, তাকে বিদায়ী উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে মানবিক কারণে। এটা খুবই লজ্জার বিষয়।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, এমন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া বিস্ময়কর ব্যাপার বটে! বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হতে নিয়োগের যোগদান স্থগিত রেখেছে। এখন বিষয়টা শিক্ষামন্ত্রনালয়ের হাতে দেয়া হয়েছে। তারাই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন।

প্রসঙ্গত, নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও কেনও ১৩৮ জনকে নিয়োগ দেয়া হলো তা ক্ষতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো, ইতিমধ্যে তদন্ত শেষ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
কমিটির প্রতিবেদনে নিয়োগের ঘটনায় প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ড. এম আব্দুস সোবহানকে।
এ ঘটনায় প্রধান সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তার জামাতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রভাষক এটিএম শাহেদ পারভেজকে।

এদিকে, সাবেক ভিসির দেয়া নিয়োগের যোগদান স্থগিত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন :