বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে মাভাবিপ্রবিতে ওয়েবিনার

শুভ দে, মাভাবিপ্রবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৩০ PM, ১৩ জুন ২০২১

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর অর্থনীতি বিভাগের আয়োজনে একটি ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত এ ওয়েবিনারের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলাউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমান ও অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন এবং অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ নাজমুস সাদেকীন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আহসান এইচ মনসুর (এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, পলিসি রিসার্চ ইনিস্টিটিউট, পিআরআই), তৌফিকুল ইসলাম খান (সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সিপিডি), ড. রাফিয়া আফরোজ (সহযোগী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মালেয়শিয়া), ড. সায়েমা হক বিনীশা (অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাবি), ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (অধ্যাপক, এগ্রিবিজনেস এন্ড মার্কেটিং বিভাগ, বাকৃবি), ড. ইসমাত আরা বেগম (অধ্যাপক, কৃষি অর্থনীতি বিভাগ, বাকৃবি), মি. মামুন রশীদ (ইকোনোমিক এনালিস্ট) এবং মোঃ মাজেদুল হক (ইকোনোমিক এনালিস্ট)। বর্তমানে এ বিষয়ে ওয়েবিনার করার মূখ্য কারন হলো বাংলাদেশের বাজেট ২০১১-১২ এর বিশ্লেষণ এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরকে অবহিত করা।
ওয়েবিনারের আলোচকবৃন্দ সকলেই বাংলাদেশের বাজেট ২০২১-২২ এর বিশ্লেষণ এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করেন এবং পরবর্তীতে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন। ড. আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশের অর্থনীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু বাংলাদেশের সক্ষমতা এখনো বাড়েনি। তিনি বাজেট জিডিপির শতাংশ না বাড়ার রাজস্ব আয় সংগ্রহে ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেন। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত অনেক কম বলে উল্লেখ করেন। তিনি আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয়ের চেয়ে আমাদের ঘাটতি বাজেটের পরিমাণ বেশি হওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেয়ে টিকাদানে জোর দেয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি নতুন দরিদ্র্য এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসএমই খাতকে বাদ দিয়ে উন্নয়ণ সম্ভব নয়।
তৌফিকুল ইসলাম খান বাংলাদেশের এবং স্বাস্থ্য খাত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ভাল করেছে। টিকাদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশ এক্ষেত্রে খারাপ পরিস্থিতে আছে। কিন্তু বাজেটে এ দিকটা দুর্বলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আয় সংগ্রহ করা সহজ হবেনা। স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের জনা বেশি বরাদ্দ না রেখে আগের মতই বাজেট করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর হাড় বিনিয়োগ ও ব্যবসায়ীদের জন্য উপযোগী হবে। সার্বিকভাবে, প্রতিষ্ঠানিক ও সুসাশনের মধ্যে সমন্বয় করার মত বাজেট এটা না বলে তিনি উল্লেখ করেন। জ. রাফিয়া আফরােজ কৃষিতে মহিলা উদ্যোক্তাদের কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৫ শতাংশ ফার্মের উদ্যোক্তা মহিলা। বাজেটে অল্প বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বাজেটে নারীদের জন্য নগদ প্রণোদনা দিলে তারা উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদেরকে প্রশিক্ষন দিতে হবে এবং তাদেরকে ডিজিটাল প্লাটফর্ম এ আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে ক্রাউড ফান্ডিং প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি। ড. সায়েমা হক বিদিশা স্বাস্থ্য নিরাপত্তার সাথে খাদ্য নিরাপত্তা জরুরী উল্লেখ করে তার সাথে শিক্ষা ক্ষেত্রের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বাজেটে বড় ব্যাবসায়ীরা যেভাবে সুবিধা নিতে পারেন, ছোট ব্যাবসায়ীরা তা পারেননা। কিন্তু বড় ব্যাবসায়ীরা সুবিধা নিয়ে এই ক্ষেত্রকে সম্প্রসারণ করছে কিনা বা শ্রমবাজারে ইতিবাচক কোনো ভূমিকা রাখছে কিনা সেটা তদারকি করার প্রতি জোর দেন।

তথ্য ভান্ডারের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে এভিডেন্স বেজড পলিসি প্লানিং অতি জরুরী। তিনি ১০০ টির অধিক নিরাপত্তা কর্মসূচী না রেখে ৮-১০ টা কমসূচী রেখে সেখানে সুস্পষ্টভাবে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা বলেন। এক্ষেত্রে তিনি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বাস্তবায়ন ও জবাবদিহীতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলে, কৃষিতে বরাদ্দ হার তুলনামূলকভাবে কমেছে।

তিনি বাজেটের ৭০-৮০ শতাংশ বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, বরাদ্দ ততক্ষণ পর্যন্ত্র পর্যাপ্ত না, যতক্ষণ না সেটা যাদের জন্য করা হয়েছে তাদের কাছে কার্যকরভাবে পৌছায়। তিনি কৃষিপণ্যের উৎপাদন বহুমুখীকরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, উৎপাদনের সাথে সাথে সেগুলো বিক্রির ব্যবস্থাও করতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি সাপ্লাই চেইন এর পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার কথা উল্লেখ করেন এবং এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান। তিনি আরও বলেন, বাজেটের বাস্তবায়ন ও সংশোধন আলোচনায় আনতে হবে।
ড. ইসমাত আরা বেগম বাজেটে নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, বাজেটে টাকা বরাদ্দ রেখে এবং সেই টাকা ব্যবহার করে মানুষ যেন দরিদ্রতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া লাগবে। বিধবাভাতা, বয়স্কভাতা পৌঁছাসোর উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, কিন্তু এর মাঝেও দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কার্যক্রমগুলো পর্যবেক্ষণ এর আশ্রয় নিয়ে আসতে হবে। সেই সাথে মহিলা উদ্যোক্তাদেরকে উৎসাহ প্রদানের কথাও বলেন তিনি। মি. মামুন রশীদ প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে দুটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে করোনা থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং প্রবৃদ্ধি অর্জন দ্রুত হওয়ার জন্য প্রণোদনাকে ঢেলে সাজানোর কথা উল্লেখ করেন।

তিনি শিক্ষার ঘাটতি পূরণ করাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ কীভাবে হবে তা উল্লেখ নেই বাজেটে। এক্ষেত্রে তিনি রাজস্ব ঘাটতি বৃদ্ধি করে, প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা বলেন। মোঃ মাজেদুল হক বাজেটে প্রবৃদ্ধি অর্জনে কর জিডিপি বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন। তিনি ইকমার্সের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। তরুণদেরকে ট্রেনিং দিয়ে বাইরে যাওয়ার ব্যাবস্থা করলে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সর্বশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন এবং অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ নাজমুস সাদেকীন এর সম্পূর্ণ ওয়েবিনারের সারাংশের মাধ্যমে ওয়েবিনারটি শেষ হয়। তারা ইচ্ছা প্রকাশ করেন যে, এই ওয়েবিনারের সারাংশ সরকারের নীতি-নির্ধারনের কাছে পোঁছানোর মাধ্যমে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :