বাসায় পুলিশি পাহারায় দিন কাটছে রাবির সাবেক ভিসির

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৫২ PM, ০৯ জুন ২০২১

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ১৩৮ জনকে নিয়োগ দিয়ে দেশে তুমুল সমালোচনার পাত্র হয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহান।

শেষ দিনটিও সুখকর হয়নি তার। বিতর্কিত নিয়োগের বিষয়ে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় অস্থিরতা যা চলে কয়েকদিন পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত পুলিশি পাহাড়ায় ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে তাকে।
মেয়াদ শেষ হবার পরেও নিজের বাড়ীতে পুলিশি পাহাড়ায় দিন যাপন করছেন.রাবির বিতর্কিত সাবেক ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহান।
এতোদিন পরেও সুরক্ষিত এলাকায় থাকা বাসাতেও একজন দুর্নীতি প্রমাণ হওয়া ব্যক্তির সরকারী পুলিশ বাহিনীর মোতায়ন নিয়েও চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
জানা গেছে, গত ৬মে সাবেক ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহান ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পরে পুলিশের পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়েন। তারপর থেকে ক্যাম্পাসের অদূরে শিক্ষকদের নিজস্ব আবাসিক এলাকায় নিজের বাড়ীতে উঠেন আবদুস সোবহান। তবে এখানেও তিনি নেই স্বস্তিতে। সুরক্ষিত এলাকা হলেও বাড়ীতে বসানো হয়েছে পুলিশের পাহারা। সারাদিন পাহারায় থাকছে একজন পুলিশের নেতৃত্বে একদল পুলিশ।
এরমাঝেই নানা সমালোচনার জন্ম দেয়া সাবেক ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহান পরিবারের চার সদস্যের ব্যাংক হিসাব চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল।
সম্প্রতি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে তথ্য চেয়েছে এনবিআর’র সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল। এনবিআর সূত্র এ তথ্য জানা গেছে। বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞারা সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দুর্নীতিবিরোধী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. সুলতানুল ইসলাম জানান, এখনো রাবির সাবেক ভিসির বাসায় পুলিশের পাহারা দেয়া লাগে। ভিসির দুর্নীতি প্রমাণিত হয়েছে। ইউজিসির তদন্ত কমিটি অনেক কিছুই সুপারিশ করেছে। তার পরেও এই যে চিহ্নিত মানুষের সরকারী অর্থ ব্যয় করে পাহারা দিতে হবে কেন?
ক্ষোভ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক বলেন, এখানে মন্ত্রণালয়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের একটা দান্ধিক সম্পর্ক আছে।এটা নিরসন করতে হলে চ্যান্সেলরের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে হবে।
এর আগেও, নিয়োগের নীতিমালা শিথিল করে মেয়ে সানজানা সোবহান ও জামাতা এটিএম শাহেদ পারভেজকে নিয়োগ দেন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের নামে “সোবাহানিয়া কোরআনুল কারীম হেফজখানা” নামকরণ করে সমালোচনার মুখেও পরেছিলেন সাবেক এই ভিসি। যদিও সমালোচনার মুখে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও কেনও ১৩৮ জনকে নিয়োগ দেয়া হলো তা ক্ষতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো, ইতিমধ্যে তদন্ত শেষ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

ইতিপূর্বে, গত ৮মে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় কমিটির সদস্যরা। দফায়-দফায় মিটিং করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, সাদা দল এবং বর্তমান রুটিন দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহার সাথে।
এর আগে উপাচার্য কার্যালয়ে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর এম আবদুস সোবহানের বিতর্কিত নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেরা করা হয়। সেদিন তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়েও অনেক প্রশ্নের জবাব মেলেনি সাবেক এই ভিসির কাছ থেকে।
এরপর অভিযুক্তদের সাথে কথা বলে এবং সবকিছু যাচাই-বাছাই করে গত (২৩ মে) সকাল ১১টার দিকে এ কমিটির প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে জমা দেওয়া হয়।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে , সাবেক ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহান স্পষ্টতই আইন ও প্রশাসনিক রীতি-নীতি ভেঙেছেন। এ নিয়োগ দিতে গিয়ে তিনি অনিয়মের আশ্রয় নিয়েেছেন। নিয়োগের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
তদন্ত কমিটি সূত্রে আরো জানা গেছে, সাবেক উপাচার্যের আরেকটি দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বিধায় বিচারের আগেই পালিয়ে যেতে পারেন আশঙ্কায় এ সুপারিশ করা হয়েছে।
সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের বিদেশ ভ্রমণ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ সেই ১৪০ জনের নিয়োগ বাতিল চেয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
কমিটির প্রতিবেদনে নিয়োগের ঘটনায় প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ড. এম আব্দুস সোবহানকে।
এ ঘটনায় প্রধান সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তার জামাতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রভাষক এটিএম শাহেদ পারভেজকে।

এদিকে, সাবেক ভিসির দেয়া নিয়োগের যোগদান স্থগিত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন :