বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত কুবির পরীক্ষা দফতরের কার্যক্রম

নাজমুল সবুজ, কুবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৩৪ PM, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহের ব্যবস্থা না থাকায় লোডশেডিং ঘটলেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিরবিচ্ছিন্ন না হওয়ায় সনদপত্র প্রদান, রুটিন প্রণয়ন, ফলাফল প্রস্তুত এবং প্রশ্নপত্র তৈরিসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদনে বিপাকে পড়তে হচ্ছে পরীক্ষা দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এতে সনদ পত্র প্রদান, ফলাফল প্রকাশসহ নানা কাজে ধীরগতি সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রোববার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সৃষ্টি হয়। এসময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন দফতরের পাশাপাশি এ দফতরের কার্যক্রম স্থির হয়ে পড়ে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়- কোটবাড়ী সংলগ্ন এলাকায় প্রায়ই বৈদ্যুতিক সংযোগ মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। আর বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেই বিকল্প বিদ্যুৎ সরবারহ ব্যবস্থা না থাকায় পরীক্ষা দফতরের কার্যক্রম থমকে যায়।

পরীক্ষা দফতর সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, এদফতরের অধিকাংশ কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়। পর্যাপ্ত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ না থাকায় প্রশ্নপত্র প্রিন্ট, রুটিন প্রণয়ন, অনলাইন এক্সামের রুটিন তৈরি, সার্টিফিকেট, মার্কসশীট তৈরি করতে সমস্যায় পড়তে হয়। পরীক্ষা দফতরের কার্যক্রমের গতিশীলতা রক্ষায় এ দফতরে আলাদা জেনারেটর স্থাপন কিংবা বিকল্প কোন পদ্ধতিতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী জয়নাল আবেদীন বলেন, ভর্তি কার্যক্রমের জন্য জরুরী কাগজ নিতে পরীক্ষা দফতর এসেছি। কিন্তু সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় কাগজপত্র নিতে পারছি না।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহের ব্যবস্থা না থাকায় প্রয়োজনীয় কাজ করতে আমাদের খুবই অসুবিধায় পড়ত হয়। এই দফতরে সার্টিফিকেট, মার্কসশীট, রুটিন তৈরি, ফলাফল তৈরির মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় যথাসময়ে কাজ করা সম্ভব হয়না। সম্প্রতি প্রশাসন বিদ্যুৎ সরবারহ নির্বিঘ্ন করতে জেনারটরের ব্যবস্থা করছে তবে চাহিদার তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। আমাদের একটি মাত্র কম্পিউটার সংযোগ দেয়া হয়েছে। চাহিদার তুলনায় অপ্রতুলতা থাকায় সঠিক সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছেনা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. দলিলুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দফতরের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কোন দফতরে কিভাবে বন্টন করা হয়েছে তা প্রকৌশল দফতর বলতে পারবে। এবিষয়ে জানতে নিবার্হী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল) মো. জাকির হোসেন বলেন, জেনারেটর ক্রয়, বন্টন ও বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি নিধার্রণ করা আছে। জেনারেটরের সাইজ ও লোডের উপর ভিত্তি করে প্রত্যেকটি দফতরের প্রধানকে সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। এখানে বাজেট স্বল্পতার কারণে এবং জেনারেটরের সাইজ ছোট হওয়ায় সংযোগের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :