বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সততা, স্বচ্ছতার বিকল্প নেই-চবি উপাচার্য

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক,চবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৫৪ PM, ১৭ জুন ২০২১

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির (এপিএ) আবশ্যিক কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের এপিএ চুক্তি বিষয়ক দিনব্যাপি এক কর্মশালা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ জুন ২০২১ সকাল ১০:০০ টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মশালা উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর বেনু কুমার দে। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এস এম মনিরুল হাসান। চবি সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, অনুষদের ডিনবৃন্দ, চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, কলেজ পরিদর্শক, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, নৈতিকতা কমিটির সদস্যবৃন্দ, পরিচালক ছাত্র-ছাত্রী নির্দেশনা ও পরামর্শ কেন্দ্র, অফিস প্রধানবৃন্দ, এপিএ কমিটির সদস্যবৃন্দ, চবি অফিসার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাবৃন্দ নিয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

মাননীয় উপাচার্য তাঁর ভাষণে উপস্থিত সকলকে স্বাগত ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার সর্বোচ্চ পাদপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের আসনে অধিষ্ঠিত করতে বর্তমান প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সকল পর্ষদকে যথাযথভাবে সচল করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসন সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে। তিনি বলেন, সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কোনো বিকল্প নেই। মাননীয় উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নির্ধারিত পর্ষদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কর্মদক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে পালন করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা যত বেশি সুনির্দিষ্ট হবে তা বাস্তবায়ন তত বেশি সঠিক হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ততবেশি এগিয়ে নেওয়ার পথ সুগম হবে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়কে সার্বিক গ্রেডিং ও র‌্যাঙ্কিং এ শীর্ষ অবস্থানে নিতে সম্ভবপর হবে। মাননীয় উপাচার্য বলেন, আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাছে দায়বদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ বিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন-অগ্রগতিতে কাজ করতে পারে না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে দায়বদ্ধতার নিরিখে সমন্বয়ের মাধ্যমে অধিকতর সচেতন হয়ে দায়িত্ব পালনে শপথ গ্রহণ করার আহ্বান জানান। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক-গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্ষদের ব্যক্তিবর্গের আলোচনা-পর্যালোচনা ও সুপারিশমালা বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মর্মে মাননীয় উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মাননীয় উপাচার্য কর্মশালার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

কর্মশালায় এপিএ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এস এম মনিরুল হাসান, এপিএ প্রস্তুতকরণ, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন চবি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) ও এপিএ কমিটির ফোকাল পয়েন্ট জনাব চৌধুরী আমীর মোহাম্মদ মুছা, বাজেট প্রণয়ন ও এপিএ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন চবি হিসাব নিয়ামক (ভারপ্রাপ্ত) ও এপিএ কমিটির সদস্য জনাব মোঃ ফরিদুল আলম চৌধুরী, এপিএ এর কৌশলগত উদ্দেশ্য ‘উচ্চশিক্ষা গবেষণাকে বিশ্বমানে উন্নীতকরণ’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন চবি গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক ও এপিএ কমিটি সদস্য প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ আল ফারুক এবং এপিএ চুক্তির আলোকে টার্গেটসমূহ পূরণের বিষয়ে দিক নির্দেশনা মূলক আলোচনা করেন আইকিইএসি’র পরিচালক ও এপিএ কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল হোসাইন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীগণ উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁদের বিজ্ঞ ও সুচিন্তিত মতামত উপস্থাপন করেন।

আপনার মতামত লিখুন :