বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেই শিক্ষার্থীদের বাড়ী পৌঁছানোর দাবি

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৪৮ AM, ৩০ জুন ২০২১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিতে) স্থগিত হওয়ার পরীক্ষা পুনরায় নিতে সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছিলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে সময়ে সাথে পাল্লা দিয়ে রাজশাহীতে করোনা পরিস্থিতি বাড়তে থাকলে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে প্রশাসন।
তবে সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণায় অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজশাহীতে আসে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়া ও লকডাউনে সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পরেছে এসব শিক্ষার্থীরা।
তাই আটকে থাকা এসব শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ী পৌঁছে দিতে বাস সার্ভিস চালু করার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন সংগঠন।
এদিকে, পরীক্ষা দিতে এসে আটকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ী পৌঁছে দিতে নিজস্ব বাস সার্ভিস চালু করেছে, কুবি,জাককানইবি,হাবিপ্রবি সহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এরূপ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দিতে এসে আটকে পড়া রাবি শিক্ষার্থীদের জন্য যথাযথ প্রদক্ষেপ গ্রহণের দাবি ছাত্র ফেডারেশনের রাবি শাখার নেতৃবৃন্দরা।
সংগঠনটির রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক সোয়াদ যৌথ বিবৃতিতে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থগিত পরিক্ষার নেওয়ার তারিখ ঘোষণা করলে পরিক্ষা দেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীরা রাজশাহীতে আসে। কিন্তু হঠাৎ করে লকডাউন-শাটডাউনের কারণে রাবি প্রশাসন পরিক্ষা আবারো স্থগিত করে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে যায়। যেসব শিক্ষার্থী রাজশাহীতে এসেছে তারা গাড়ি বন্ধ থাকায় বাড়ি ফিরতে পারছেনা। আবার রাজশাহীর বিভিন্ন মেসে বা বাসায় শিক্ষার্থীদের থাকাটাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন মনে করে শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তির দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে। কেন তারা বারবার শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলছে ছাত্র সমাজের কাছে তার জবাবদিহি করতে হবে।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দরা দাবি করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি দূর করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
যেসব পরিক্ষার্থী রাজশাহীতে এসেছে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে নিরাপদে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সাথে কোন শিক্ষার্থী ও তার পরিবার স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে না পড়ে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনবোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের খরচে শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ এলাকায় হোম কোয়ারান্টাইনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর যেসব শিক্ষার্থী রাজশাহীতে থাকতে চায় তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করে সেখানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছে কোন টাকা নেওয়া যাবেনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের কারণে যদি কোন শিক্ষার্থীর কোনরকম ক্ষতি হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও জানান তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন আবাসিক হলসমূহ বন্ধ রাখার শর্তে সশরীরে স্থগিত হওয়া পরীক্ষা নেয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো রাবি প্রশাসন। স্থগিত হওয়া পরীক্ষা সমূহ গত ২০ জুনের পর থেকেই শুরু হচ্ছে সেই সাথে ২০ জুনের পর ২০১৯ সালের স্থগিত পরীক্ষা সমূহ, আগামী ৪ জুলাই এর পর ২০২০ সালের পরীক্ষা সমূহ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো।

আপনার মতামত লিখুন :