বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে ইবি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

ইমরান মাহমুদ, ইবি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  11:07 AM, 22 November 2021

বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার মধ্যবর্তী স্থানে সবুজ গাছপালায় ঘেরা নয়নাভিরাম এক সুনিবিড় পরিবেশে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহর থেকে যথাক্রমে ২৪ ও ২২ কিলোমিটার দূরে ১৭৫ একর জায়গা জুড়ে কুষ্টিয়া খুলনা মহাসড়কের পাশে শান্তিডাঙ্গা দুলালপুরে এটির অবস্থান। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম উচ্চশিক্ষার বিদ্যাপীঠ হাঁটি হাঁটি পা পা করে গৌরবের ৪২ টি বছর সফলতার সঙ্গে পেরিয়ে আগামী ২২ নভেম্বর ৪৩ তম বর্ষে পদার্পণ করতে চলেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উচ্চ শিক্ষার এ বিদ্যাপীঠ নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন ইমরান মাহমুদ।

 

বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে পড়ুক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

আব্দুল আলিম
শিক্ষার্থী বাংলা বিভাগ

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জ্ঞান বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। জ্ঞান চর্চার সর্বোচ্চ এ বিদ্যাপীঠটি আরো আরো সুনাম কুড়াক।
বিশ্বপরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ুক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১৭৫ একরের এ ক্যাম্পাস হয়ে উঠুক শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষাজীবনের নির্ভরতার পথ প্রদর্শক। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সকলের কাছে পরিচিতি পাক একটি শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে।

শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হোক

নূর উদ্দিন
শিক্ষার্থী এপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

বাংলাদেশের অন্যতম একটি বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ৪২ পেরিয়ে ৪৩ ই পদার্পন করলো। হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের সারথি প্রিয় ক্যাম্পাস বহুদিন যাবত সগৌরবে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আসছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক- শিক্ষার্থী দেশ বিদেশে তাদের মেধার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে আনছে। এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো এটা আমার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল। এখন আমি সেই স্বপ্নের একজন গর্বিত সদস্য। ভাবতেই একরাশ ভালো লাগা মনটাকে আনন্দ দেয়।

একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আমার প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শতভাগ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হোক। সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে সুস্থ রাজনীতির চর্চা, মুক্তচিন্তা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চার পাশাপাশি গবেষণা ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত বলে মনে করি।

গবেষণার দার উন্মুক্ত হোক

আসলাম খান শোভন
শিক্ষার্থী ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ

বিশ্ববিদ্যালয় মানেই একটি গবেষণাগার। গবেষণা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বিশ্বমানের একটি প্রতিষ্ঠান অকল্পনীয় । ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার কাজে অনেকটাই পিছিয়ে। প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছরেও স্থাপিত হয়নি একটি কেন্দ্রীয় গবেষণাগার। গবেষণার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যথেষ্ট সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। গবেষণাগার না থাকাই শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে গবেষণা থেকে। আমি আশা করছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খুব শীঘ্রই একটি কেন্দ্রীয় গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করবে এবং গবেষণার কাজে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে ব্যাবস্থা নিবে।

করোনার সেশনজট কাটিয়ে উঠতে মাস্টার প্ল্যান প্রয়োজন

মনির হোসাইন
শিক্ষার্থী আল ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ হতে পেরে আমি অনেকাংশেই গর্ববোধ করি। আশা করি শিক্ষা ও গবেষণায় উন্নয়নের মধ্য দিয়ে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাড়াবে ইবি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। তবে এখন বেশি প্রত্যাশা থাকবে করোনায় প্রায় দুই বছরের সেশনজট দ্রুত কিভাবে কাটিয়ে উঠা যায় তার একটা মাস্টার প্ল্যান কার্যকর করার।

আপনার মতামত লিখুন :