ভিসির চুল কেটেও পেয়েছে চাকরী

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:১৮ PM, ০৮ মে ২০২১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সদ্য সাবেক উপাচার্য এম আবদুস সোবহানের শেষ কর্মবিদসে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৪১ জনের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন, যারা উপাচার্যের পরিবারের সদস্যদের চুল কাটতেন, তার বাসায় রান্না করতেন, এমনকি মাংস সরবরাহ করতেন।

যদিও এরই মধ্যে এই নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শুধু তাই নয়, এই অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কর্মবিদসের মধ্যে সেই কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

চুল কেটেও চাকরি

বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কাজলা এলাকার শামসুল আলম দীর্ঘ ধরে উপাচার্য আবদুস সোবহান ও তার পরিবারের সদস্যদের চুল কাটতেন। এই শামসুল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুয়ার্ট শাখায় নিরাপত্তাপ্রহরীর চাকরি পেয়েছেন।

কাজলার ধরমপুর এলাকার আবদুস সামাদ ওরফে রাজন কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি উপাচার্যের ব্যক্তিগত ফার্নিচার বানিয়ে দিতেন। তিনি প্রকৌশল দপ্তর শাখায় কাঠমিস্ত্রি পদে চাকরি পেয়েছেন।

উপাচার্যকে নিয়মিত মাংস সরবরাহ করতেন কাজলা এলাকার ফজলুর হক নামের এক ব্যক্তি। তার মেয়ের চাকরি হয়েছে। তবে তার মেয়ের নাম ও কোন পদে চাকরি পেয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উপাচার্যের বাড়িতে মালির কাজ করেন সাইফুল ইসলাম। তার স্ত্রী মোসা. মিনু খাতুন ওই বাসভবনে রান্না করতেন। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে আয়া পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

যা আছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে

উপাচার্যের গণহারে অ্যাডহক নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়য়র উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে ইতোপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ কার্যক্রমসহ আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর পত্রের মাধ্যমে প্রশাসনিক কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু উপাচার্য আজ ০৬.০৫.২০২১ খ্রি. তারিখে তার শেষ কর্মবিদসে মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভিন্ন পদে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূতভাবে জনবল নিয়োগ প্রদান করেছেন মর্মে মন্ত্রণালয় অবহিত হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্ভব, যা অনভিপ্রেত। বিদায়ী উপাচার্য কর্তৃক অবৈধ জনবল নিয়োগের বৈধতা প্রাপ্তির সুযোগ নেই বিধায় এতদসংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হলো।

আপনার মতামত লিখুন :