ভয়ে আমার সন্তান ও স্ত্রী কাঁদছেন- রাবি ভিসি

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৪৬ PM, ২৪ জুন ২০২১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহান অ্যাডহকের ভিত্তিকে ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহাসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ফাইন্যান্স কমিটির সভা ও সিন্ডিকেট না করার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরিপ্রাপ্ত আন্দোলন কারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দুপুরে প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন রুটিন উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নগর পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা। শান্তি শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার জন্য অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৩৮ জনকে দায়ী করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে রুটিন উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৬ মে নিয়োগকে কেন্দ্র করে যে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার দ্বন্দ্ব এখনও শেষ হয়নি। গত ৩১ মে উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ আমরা কয়েকজন কথা বলছিলাম। যারা কথিত চাকরি পেয়েছে তারা আমার বাসভবনের গেট উপড়ে ফেলে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও অপ্রত্যাশিতভাবে অনুমতি ছাড়াই ৫০/৬০ জন ঘরে ঢুকে পড়ে এবং সভা পন্ড করে দেয়। আমি ভেতরে ছিলাম। দেখি আমার সন্তান ও স্ত্রী কাঁদছেন। তারা ভয় পেয়েছেন। বাসভবনে নিরাপদ মনে করছি না। কখন কি হয়ে যায়।তিনি আরও বলেন, আমার সহকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। এমনকি উপ-উপাচার্য নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। ফাইন্যান্স কমিটির সভা ও সিন্ডিকেট যাতে না হয় সেকারণে আন্দোলনকারীরা কোষাধ্যক্ষ, উপ-উপাচার্যকে হুমকি দিচ্ছে। কোষাধ্যক্ষকে ১০/১৫ গিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে।তিনি আরও বলেন, করোনায় দীর্ঘ সময় হল অব্যবহার্য অবস্থায় থাকা আবাসিক হলগুলো সংস্কারের প্রয়োজন। এজন্য ২০২০-২১ অর্থবছরের শেষ সময়ে একটা বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছিলো শিক্ষামন্ত্রনালয়।

উপাচার্য জানান, হলগুলো সংস্কার করার জন্য আমরা গত ১৯ জুন ফাইন্যান্স কমিটির সভা আহবান করেছিলাম। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত আমার ফাইন্যান্স কমিটির সভা করতে পারিনি। কারণ সিনেট, প্রশাসনভবন, উপাচার্য লাউঞ্জ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। সামনে একাডেমিক কাউন্সিল করতে হবে সেটিও কি হবে জানি না। আন্দোলনকারীদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক বলে দাবি রাখেন তিনি।আন্দোলনকারীদের সমাধান নিজের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয় সেটা আগেই জানিয়েছেন বলে জানান আনন্দ সাহা। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের আমরা আগেই জানিয়েছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া আমার দ্বারা কিছু করা সম্ভব নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যদি নির্দেশণা না আসে তাহলে রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্যের কিছু করার ক্ষমতা নাই।

আপনার মতামত লিখুন :