মানবিক কারণে ছাত্রলীগকে নিয়োগ দিয়েছি: আবদুস সোবহান

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৩৫ PM, ০৮ মে ২০২১

আজ শনিবার বিকালে পুলিশি পাহারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে প্রবেশ করে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হন বিদায়ী প্রফেসর এম আবদুস সোবহান।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিয়োগ হওয়ার দরকার ছিলো মনে করে সদ্য বিদায়ী এই ভিসি বলেন, যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা এটা ডিজার্ভ করে। কারণ প্রত্যকে অনার্স মাস্টার্স পাশ। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর চাকরী দেয়াটা যৌক্তিক সেজন্য আমি ছাত্রলীগকে এই নিয়োগ মানবিক কারণে দিয়েছি।
নিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বন্ধ ছিলো। দ্বিতীয়,চতুর্থ শ্রেণী ২০১৩-২১ সালের মাঝে কোন নিয়োগ হয়নি। আমরা নিয়োগ নেয়া প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম, সেই নিয়োগ নেয়া প্রক্রিয়া মধ্যে হঠাৎ করে করোনা আসে। আমরা তখন বন্ধ করে দেই। এর পরে চারপাশ থেকে গুঞ্জন শোনা যায়, কিছু কিছু শিক্ষকের মুখে তারা বলে এ নিয়োগ দেয়া যাবে না। মন্ত্রনালয় থেকে নিষেধাজ্ঞা আসবে।  ডিসেম্বর ১৩ তারিখে স্থগিতাদেশ আসে আমি বিস্মিত হই। শিক্ষকরা কিভাবে আগে থেকেই জানলো।  কিছু শিক্ষক ক্যাম্পাসটাকে অস্থিতিশীল করার জন্য চেষ্টা করেছে। এ নিয়োগে কারো কোন হাত নেই। ছাত্রলীগের এটা প্রাপ্তি ছিলো।
এর আগে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষে বিভিন্ন হল-দপ্তরে ১৩৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে কি না,তা তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  যার প্রেক্ষিতে আজ শনিবার (৮মে) বেলা ১১টা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় কমিটির সদস্যরা। দফায়-দফায় মিটিং করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, সাদা দল এবং বর্তমান রুটিন দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহার সাথে।
এর আগে উপাচার্য কার্যালয়ে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর এম আবদুস সোবহানের বিতর্কিত নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেরা করা হয়। একে একে মিটিং করা হয় নিয়োগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ঃ

মো. মামুন অর রশীদ, সহকারী রেজিস্ট্রার পরিষদ, শাখা সিনেট ভবন। ইউসুপ আলী ডেপুটি রেজিস্ট্রার সংস্থাপন শাখা। মো. তরিকুল আলম সহকারী রেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রার অফিস। ড. দিন বন্ধু পাল চেয়ারম্যান, সংগীত বিভাগ। প্রমুখ

বিতর্কিত নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেরা শেষে তদন্ত কমিটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন,আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী ভিসি আবদুস সোবহান কর্তৃক প্রদত্ত নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করায় তদন্ত কার্য পরিচালনা করতে এসেছি।
নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সকল ফাইল পত্র এবং কাগজ পত্রাদি যাচাই করে দেখা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. মো. আলমগীর আরো জানান, যেসব তথ্য এবং কাগজপত্রাদি আমাদের হাতে এসেছে তা আমরা বিচার-বিশ্লেষণ করে এর দায়ভার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করব।

তিনি আরো বলেন, আমরা এই ক্যাম্পাসের সুনাম অক্ষুন্ন থাকুক চাই। এই শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার পরিবেশ সঠিক থাকুক এবং দূর্নীতিমুক্ত এটাই চাই।

আপনার মতামত লিখুন :