মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে মারধরের শিকার রাবি শিক্ষার্থী

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:২৫ AM, ১২ জুন ২০২১

কিডনিজনিত সমস্যায় মায়ের চিকিৎসা নিতে এসে রংপুর মেডিকেলে হাসপাতালে (রামেক) স্টাফদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন রাশেদ করিম নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী ও তার বড় ভাই বেরোবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম রিয়াদ। গতকাল শুক্রবার (১০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে সাত টায় রমেকের ইমাজেন্সি ইউনিটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশী নিরাপত্তায় শিক্ষার্থী রিয়াদ মাথায় আঘাত পাওয়ায় এবং তার মাকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান, রাশেদ তার বড় ভাই সহ অসুস্থ মাকে ভর্তি করার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইমারর্জেন্সি ওয়ার্ডে আনে। ওয়ার্ডের দায়িত্বশীলরা ৩০ টাকার জায়গায় অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে করলে অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করে ফলে বড় ভাই রিয়াদকে একযোগে কয়েকজন এসে রিয়াদকে মারধর করে তারা। এসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাশেদ করিমও মারধরের শিকার হয়।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাশেদের সহপাঠীরা বলেন, তাদের মা কিডনিজনিত সমস্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ এ এমারজেন্সি বিভাগে ভর্তি করাতে গেলে ভর্তি ফি ১০০ টাকা চায় মেডিকেল স্টাফরা কিন্তু ভর্তি ফি ৫০ টাকা এমনকি ১০০ টাকা দিয়েই ভর্তির রশীদ চাইলে তাকে অনেক মার ধর করে ১ ঘন্টা যাবৎ রুমে তুলে নিয়ে গিয়ে পেটায়। এ কি ধরনের রমেক প্রশাসন। তীব্র নিন্দা জানাই।এর সঠিক তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার” গ্রুপে পোস্ট করেন, মুজাহিদ নামে এক শিক্ষার্থী পোস্টে উল্লেখ করে বলেন,
মাকে ভর্তি করাতে গিয়ে, নিজেই হাসপাতালে ভর্তি রাবি শিক্ষার্থী। গতকাল সন্ধায়, রাবির মার্কেটিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদ করিম এবং তার বড় ভাই বেরোবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী রিয়াদ তাদের কিডনী সমস্যায় আক্রান্ত মাকে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করায়।
রোগী ভর্তি ফি ৫০৳ বদলে ১০০৳ নেওয়ার কারন এবং রশিদ চাওয়ায়, স্টাফ এবং তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের স্টাফরা দুই ভাইকে মারধর করে।
ভুক্তভোগী দুই ভাই এখন গুরুতর অবস্থায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি।

আমি এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই। এবং অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।

ঘটনা সম্পর্কে ভুক্তভোগী রাশেদ করিম বলেন, আমার মায়ের ডায়ালাইসিস করার জন্য মাকে ভর্তি করতে এসে ইমার্জেন্সি ইউনিটের সামনে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জন ভাইকে বেধর মারধর শুরু করে। মোবাইল দিয়ে আমি তাদের ছবি তোলার চেষ্টা করলে আমাকেও মারধর করে তারা আমাদের মোবাইল কেড়ে নেয়। তারা চলে যাওয়ার সময় মোবাইল ফেরত দেয় তারা। আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই।

উপস্থিত পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর( এস আই) আপেল বলেন, আমরা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করছি। শীগগির ব্যবস্থা নিতে পারবো বলে আশা রাখছি।

 

আপনার মতামত লিখুন :