যা শয়তান যা, রাবি ক্যাম্পাস থেকে দূরে যা!

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৩৬ PM, ০৭ মে ২০২১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যপীঠ। হাজারো শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের আঙ্গিনা। তবে সম্প্রতি সময়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর এম আবদুস সোবহানের নিয়োগ বানিজ্য, নিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালা শিথিল করে মেয়ে ও জামাতাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে নানা সময়ে বির্তকের জন্ম দিয়েছেন, সৃষ্টি হয়ছে কলঙ্ক জনক এক অধ্যায়ের। এছাড়াও উপ- উপাচার্য প্রফেসর ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার নিয়োগ বানিজ্য, স্বজনপ্রীতি, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ অনেকের নামেই দূর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৬মে) ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহানের মেয়াদের শেষ দিনেও অনিয়ম করতে পিছপা হননি। বিদায়ের আগ মুহূর্তে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেসময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নানা বির্তকের মাঝে ১৩৭ জনকে অ্যাডহকে নিয়োগ দিয়েছেন।
দুপুর ১২ টার দিকে মহানগর  ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে রাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ও কর্মচারীরা তাদের ধাওয়া করে। এতে ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায় মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
ঠিক এ মুহূর্তে পুলিশি কড়া পাহারায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আবদুস সোবহান।

বিদায়ের দিনেও এমন অনিয়ম মেনে নিতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ ভিসির এমন অবৈধ নিয়োগ নিয়ে দেশজুড়েই চলছে সমালোচনার ঝড়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন,সম্মান যেনও সব নষ্ট করে দিয়েছেন এই উপাচার্য।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের এমন অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা মনে করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং প্রশাসনিক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হলেই তাদের উপর যেনো শয়তানের ভর করে। শয়তানের প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে দুর্নীতি,অনিয়ম,নিয়োগ বাণিজ্য,স্বেচ্ছাচারিতার সহ নানারকম নৈতিক স্খলনের অভিযোগে অভিযুক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়কে শয়তান মুক্ত করতে, শিক্ষার্থীরা ঢিল ছুঁড়ে মারছে আর বলছে,”যা শয়তান যা, রাবি ক্যাম্পাস থেকে দূর হয়ে যা।” অনেক শিক্ষার্থী এই ভিন্ন কর্মসূচীতে যুক্ত হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

এমন ভিন্ন প্রতিবাদ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক শিক্ষার্থী প্রসেনজিৎ কুমার কারণ উল্লেখ করে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকগণ আমাদের অত্যন্ত ভালোলাগার এবং ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার মানুষ। কিন্তু লক্ষ্যণীয় বিষয়, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং প্রশাসনিক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হলেই তাদের উপর যেনো শয়তানের-ভূতের আছড় পড়ছে। শয়তানের প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে দুর্নীতি,অনিয়ম,নিয়োগ বাণিজ্য,স্বেচ্ছাচারিতার সহ নানারকম নৈতিক স্খলনের অভিযোগে প্রায় প্রত্যেককেই বিদায় নিয়েছেন। যার মাধ্যমে দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়টি নেতিবাচকবাচকভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে বারবার। বিশ্ববিদ্যালয়টির একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এসব আমাদের চরম পীড়া দেয়। একইসাথে লজ্জা এবং কষ্টে বিব্রত ও ব্যথিত করে। এমতাবস্থায় শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে প্রিয় শিক্ষকদের রক্ষার মাধ্যমে উপাচার্য ভবন,প্রশাসন ভবন তথা ক্যাম্পাসে শিক্ষা ও গবেষণার অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ করা জরুরি। আর একমাত্র কংকর নিক্ষেপের মাধ্যমেই শয়তানকে স্থায়ীভাবে ক্যাম্পাস থেকে বিতারিত করা সম্ভব বলে বিবেচিত হয়। শয়তানকে লক্ষ্য করে তিনটি প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে শয়তান মুক্ত করার আহবান করছি শিক্ষক,শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বিশেষে সকলকে। আজ জুমার নামাজের পর থেকে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি।

আপনার মতামত লিখুন :