রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত টিচার আমাকে মাফ করে দিয়েন

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৫২ PM, ০৭ মে ২০২১

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদনে ভিসি আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে প্রমানিত হওয়ায়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের নিয়োগ পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছিলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে বিদায়ের আগ মুহূর্তে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তবুও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নানা বির্তকের মাঝে ১৩৭ জনকে অ্যাডহকে নিয়োগ দিয়েছেন বিদায়ী ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান। বুধবার (৫ মে) স্বাক্ষরিত নিয়োগ তালিকা থেকে বিষয়টি জানা গেছে।

তবে বিতর্কিত বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবাহানের দিয়ে যাওয়া অবৈধ ১৩৭ নিয়োগে ছিল না শিশক্ষকদের গুলি করতে বলা সেই আকাশ নামে স্থানীয় যুবক। নিয়োগ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, যদিও আমার এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়। তারপরও না বললে থাকতে পারলাম না। আমার যা হবার হোক।
মোট ১৪১ জন নিয়োগ দিয়েছে ভিসি স্যার নিজস্ব ক্ষমতা বলে। আব্দুস সোবহান স্যার (ভিসি) কিছু ছাত্রলীগের বড় ভাইদেরকে চাকরি দিয়ে আপনার চরিত্রটা দুধের মত সাদা করে ফেলতে চাচ্ছেন? কিন্তু আপনাকে এটাও স্বীকার করতে হবে, অনেকের কাছ থেকেই আপনি নিজে বা কাউকে দিয়ে টাকা নিয়ে তাদের চাকরি দিয়েছেন, তারা কি আসলেই ছাত্রলীগ? তবে এখন তো সবাই ছাত্রলীগ। স্যার আপনি চাকরি দিয়েছেন তাদের, যারা নব্য ছাত্রলীগ। এমন কি এটা আপনারই তৈরি ছাত্রলীগ।আপনি নিজে বা কাউকে দিয়ে টাকা নিয়ে তাদের চাকরি  দিয়েছে।
আসলে তারা বিএনপি ও জামাতের ঘরের সন্তান। একটা তদন্ত কমিটি করা হোক। যদি আমার কথা ভুল হয়। তাহলে স্যান্ডেল দিয়ে মেরিন। আমি মাথা পেতে নিব।

ওই স্ট্যাটাসে তিনি আরো লিখেন, ‘তবে স্যার ছাত্রলীগের অনেকের জীবন আপনি নষ্ট করেছেন, স্যার এটাও তো আপনাকে স্বীকার করতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমস্ত টিচার আমাকে মাফ করে দিয়েন। আব্দুস সোবহান স্যার আপনাকে দুর্নীতিবাজ বললেও অল্প কিছু বলা হবে। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আকাশ ইসলাম বলেন, ‘ভাই, অনেক আশা করেছিলাম আমার চাকরিটা হবে। আমি গরীব ঘরের সন্তান। কিন্তু আমার চাকরিটা হল না। ’

এরপূর্বে, গত (৫মে)গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের বাসভবনে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। উপাচার্য সিন্ডিকেট সভায় পছন্দের প্রার্থীদের অ্যাডহকে চাকরি দিতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন এমন অভিযোগে সভা বন্ধের দাবিতে বাসভবনের সামনে অবস্থানের ঘোষণা দেন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষকরা। সেখানে সকাল থেকে চাকরিপ্রত্যাশী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও বহিরাগতরা অবস্থান নেন এবং ভিসির বাস ভবন ঘেরাও করে রাখে চাকরী প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতাকর্মীরা। সে মুহূর্তে সিন্ডিকেট সভায় ‘অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হবে’ এমন অভিযোগে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে শিক্ষকদের সাথে আগে থেকে অবস্থান নেয়া চাকরী প্রত্যাশী ছাত্রলীগের ধাক্কাধাক্কি ঘটে। একপর্যায়ে শিক্ষকরা জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের নেতারা শিক্ষকদের লাঞ্চিত করেন।
এই সময় শিক্ষকরা বাসভবনের সামনে অবস্থান রতদের আইডিকার্ড প্রদর্শনের দাবি জানায় তারা। ঠিক এই সময় এক চাকরী প্রত্যাশী উপস্থিত শিক্ষকদের গুলি করার হুমকি দেন। চাকরীপ্রত্যাশী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা মেহেরচণ্ডীর বাসিন্দা আকাশ।

 

আপনার মতামত লিখুন :