রাবিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:৩৬ PM, ০৮ মার্চ ২০২১

দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি, লেখক মুশতাক হত্যাকাণ্ড ও কার্টুনিস্ট কিশোরকে অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে ছাত্র -শিক্ষক অভিভাবকদের ব্যানারে এক মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।

রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল মজিদ অন্তরের সঞ্চালনায়, রাবি’র ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম কনক, সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ, অধ্যাপক ইফতেখারুল আলম মাসুদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার,অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ খান প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দেশের জনগণের কল্যাণে প্রণয়ন করা হয়নি এটা সরকারের গদি নিরাপদ করার জন্যই প্রণয়ন করা হয়েছে। সারাদেশের মানুষ সরকারের প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। এরকম কন্ঠরোধ করা আইনের মধ্য দিয়ে সারাদেশে অনিয়মের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। লেখক মোস্তাক কম পরিচিত ছিলেন, তবুও রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালিখি করেছেন। কিন্তু এই ভেবে খারাপ লাগে যে দেশে এতো বুদ্ধিজীবী,লেখক সাহিত্যিক রয়েছেন তারা বুক চেতিয়ে কথাগুলো বলতে পারেন না। ফলে বাংলাদেশে একটা সামগ্রিক সংকট আছে। সরকারের এ আইন বা তৎপরতা কারণে সাংবাদিকরাও কলম চালাতে পারছেন না। লেখকরা তাদের লেখাগুলো লিখতে পারছে না।
কার্টুনিষ্ট কিশোরকে জেলে আটকে নির্যাতন করা হয়েছে। এখন ৫০ বছরের বাংলাদেশে এসে এমন অবস্থানে দাঁড়ালাম যে বাকস্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। সেটাও সরকার হরণ করে নিচ্ছে। বর্তমান সরকার তার গদিকে টিকিয়ে রাখার জন্য নানান আইন-কানুন ও ব্যাখা দাঁড় করাচ্ছে।
যারা জনগণের পক্ষে যারা কথা বলতে চায় তাদের কন্ঠরোধ করে দেয়ার জন্যই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মনে করে বক্তারা বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দেশের ভাবমূর্তি, সরকারের ভাবমূর্তি যুক্ত করা হয়েছে,রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি তখন কোথায় যায় যখন নির্বাচনে ভোট চুরি করে অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আসে। তখন রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়না। প্রধানমন্ত্রী কি সমালোচনার উর্ধ্বে থাকতে পারে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই দেশের গণবিরোধী আইন প্রনয়ন করা হয়েছে তা বদলাতে হবে। এ দেশ স্বাধীন হয়েছিলো আপমর জনগণের রক্তের বিনিময়ে সে রাষ্ট্র একা শেখ হাসিনার নয় একা আওয়ামীলীগের নয়। তাই অনতিবিলম্বে দেশে গনবিরোধী আইন বাতিল করতে হবে নয়তো ছাত্র-সমাজ তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে তুলবে।”

 

আপনার মতামত লিখুন :