রাবিতে পাওয়া মর্টার শেলটি ছিলো সক্রিয়

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৫৭ PM, ২৮ এপ্রিল ২০২১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরে পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধারের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিস্ফোরণ ঘটায় সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ টিম।
আজ বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ঝুঁকি এড়াতে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে আগত সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয় টিম ক্যাম্পাসের বদ্ধভূমির ফাঁকা মাঠে শেলটি বিস্ফোরিত করা হয়েছে। তথ্যটি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর লুৎফর রহমান।
গতকাল মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে বধ্যভূমির পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরে মাছের খাবার দেওয়ার সময় এটি লক্ষ্য করেন মেহেরচণ্ডী এলাকার মাছচাষি শরীফ। পরে তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পরিত্যক্ত মর্টার শেল উদ্ধার করে পুলিশ। তবে পুলিশের ধারণা মতে এটি ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত মর্টার শেল।

এ বিষয় নিয়ে লুৎফর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন মাটিতে পড়ে থাকায় শেলটি বিস্ফোরণের সম্ভাবনা খুব একটা ছিল না। তবে এর ভিতরের কিছু কিছু উপাদান এখন ভালোই ছিল। ফলে সম্ভব্য ঝুঁকি এড়াতে সেটাকে বিস্ফোরণের মাধ্যমে নষ্ট করেছে বোমা নিষ্ক্রিয় টিম।
শেলটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংগ্রশালায় সংরক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শেলটি সংরক্ষণ করা গেলে ভাল হতো। স্মৃতি হিসেবে থাকত। তবে শেলটি যেহেতু একেবারে নিষ্ক্রিয় নয়। সুতরাং ঝুঁকি আছে। ফলে সেটাকে নষ্ট করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেননা পাক-হানাদার বাহিনীর টর্চার সেল ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জোহা হল। সেখানে হানাদার বাহিনী বিভিন্ন অস্ত্র-সস্ত্র রেখেছিল এবং আশপাশের নারী পুরুষদের ধরে এনে সেখানে নির্যাতন করত। এমনি তাদের হত্যা করে বদ্ধভূমিতে পুঁতে রাখত। সেহেতু এই এলাকার মাটির নিচে এরকম আরো অনেক কিছু থাকতে পারে। সম্ভব হলে জরিপ করে টিমকে সেগুলোরও অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :