রাবিতে মাটি লুটে জড়িতদের শাস্তির দাবি

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৩১ PM, ২৬ এপ্রিল ২০২১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত ২৭ দিন ধরে পুকুর খননের নামে কোটি-কোটি টাকার মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়। পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রি কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ।
আজ সোমবার (২৬এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতারণামূলক এই অপরাধ কর্মের সাথে জড়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে ছাত্র ফেডারেশন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফুল আলম সম্রাট ও সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলন যৌথ বিবৃতিতে জানান, করোনা মহামারীর কারনে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ ঠিক এমন সময় শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুকুর খননের নামে কোটি কোটি টাকার মাটি বিক্রির করছে। তারা অর্থের লোভে মাটি বিক্রির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়কে কঠিন বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শুধু মাটি বিক্রির ঘটনাই প্রথম না আমরা এর আগেও দেখেছি বিভিন্ন মৌসুমে ফলের গাছ লিজ দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বঞ্চিত করে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অর্থলোভী এই প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবসার ক্ষেত্রভূমিতে পরিণত করছে।মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

নেতৃবৃন্দ আরো জানান, একদিকে বাণিজ্যিক সান্ধ্যকোর্সের মাধ্যমে সার্টিফিকেট বিক্রি অন্যদিকে অডিটোরিয়াম, ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন স্থান, সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা তাদের পকেট ভরছে। এরই ধারবাহিকতায় এখন দেখছি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর লিজ ও মাটি বিক্রির ঘটনা। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন মুনাফখোর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন কার্যক্রমের জবাবদিহি ও বিচার চায়।

নেতৃবৃন্দ মনে করেন প্রশাসনের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড শুধু শিক্ষাকর্যক্রমকেই ব্যাহত করে না বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। ফলে দ্রুত মাটি বিক্রির এই কাজ বন্ধ করতে হবে। এবং স্থানীয় ঠিকাদারদের হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার জন্য দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছর মার্চে শহিদ শামসুজ্জোহা হলের পূর্বপাশের প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পুকুর খননের টেন্ডার হয়। এতে মাসুদ রানা ও অহনা ট্রেডার্স নামের দুইটি প্রতিষ্ঠান এ ইজারা পায়। তবে শর্ত ভঙ্গ করে গত ২৭ মার্চ থেকে খননরত পুকুরের মাটি ট্রাকভর্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যেতে থাকে জোহা হলের পূর্ব-দক্ষিণ জলাশয় লিজ গ্রহীতা দুই পক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি- মাটি বিক্রি বন্ধে দুই দফা নির্দেশনা দেওয়া হলেও এ নির্দেশ তোয়াক্কা করছে না।

 

 

আপনার মতামত লিখুন :