রাবির শিক্ষক হলেন বশেফমুবিপ্রবি ভিসির জামাতা

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৩৪ PM, ০৯ মে ২০২১

গত বৃহস্পতিবার (৬ মে) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সদ্য সাবেক উপাচার্য এম আবদুস সোবহানের শেষ কর্ম দিবসে অবৈধভাবে ১৩৭জন নিয়োগ পেয়েছে। মেয়াদের শেষদিনে অ্যাডহকে নিয়োগ দেয়া হয় ৯ জন শিক্ষককেও।

নিয়োগ সংক্রান্ত তালিকায় থেকে জানা গেছে, শিক্ষক পদে ৯ জন, কর্মকর্তা পদে ১৯ জন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পদে ৮৫ জন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে ২৪ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
শিক্ষক পদে ৯ জন:
শিক্ষক পদে ৯ জনের মধ্যে একজনকে সহযোগী অধ্যাপক ও আটজন প্রভাষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। প্রভাষক পদে আটজন হলেন-ফিশারিজ বিভাগে তাসকিন পারভেজ, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ইন্দনিল মিশ্র, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সে ড. শাহরিয়ার মাহবুব, সংগীত বিভাগে ঋত্বিক মাহমুদ, ইতিহাস বিভাগে কামরুজ্জামান, আরবি বিভাগে ড. এ কে এম মুস্তাফিজুর রহমান, সমাজকর্ম বিভাগে আফজাল হোসেন এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগে আসাদুজ্জামান।
এছাড়া সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক (আইটি) হিসেবে ড. সাবিহা ইয়াসমিনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তার মধ্যে শিক্ষকের তালিকার প্রথমে নাম রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা তাসকীন পারভেজের। ফিশারিজ বিভাগের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। বাকি ৭ জনের মধ্যে ৪ জনই শিক্ষক পরিবারের। কেউ শিক্ষকের ছেলে, কেউ স্ত্রী কেউবা আবার শিক্ষকের জামাতা।
তাদের মধ্যে রয়েছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমদের জামাতাও। সৈয়দ শামসুদ্দিন রাবির ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক।
তার জামাতা ড. শাহরিয়ার মাহবুব নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের প্রভাষক পদে। শিক্ষক নিয়োগ তালিকার ৪ নম্বরে ড. শাহরিয়ারের নাম রয়েছে।

এদিকে গতকাল শনিবার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষে বিভিন্ন হল-দপ্তরে ১৩৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে কি না,তা তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিটি গতকাল বেলা ১১টা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় কমিটির সদস্যরা। দফায়-দফায় মিটিং করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, সাদা দল এবং বর্তমান রুটিন দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহার সাথে।
এর আগে উপাচার্য কার্যালয়ে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিদায়ী উপাচার্য প্রফেসর এম আবদুস সোবহানের বিতর্কিত নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেরা করা হয়। একে একে মিটিং করা হয় নিয়োগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
বিতর্কিত নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জেরা শেষে তদন্ত কমিটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন,আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী ভিসি আবদুস সোবহান কর্তৃক প্রদত্ত নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করায় তদন্ত কার্য পরিচালনা করতে এসেছি।
নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সকল ফাইল পত্র এবং কাগজ পত্রাদি যাচাই করে দেখা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. মো. আলমগীর আরো জানান, যেসব তথ্য এবং কাগজপত্রাদি আমাদের হাতে এসেছে তা আমরা বিচার-বিশ্লেষণ করে এর দায়ভার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করব।

এদিকে, বিদায়ী ভিসির দেয়া চাকরীতে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান স্থগিত করেছ কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার (৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :