রাবির সাবেক ভিসি পরিবারের ব্যাংক হিসাব তলব

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৪৬ PM, ২৭ মে ২০২১

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ১৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে দেশে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহান। ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রীতিমতো লঙ্কাকান্ড।
এর মাঝেই সদ্য সাবেক ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহান পরিবারের চার সদস্যের ব্যাংক হিসাব চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল।
সম্প্রতি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে তথ্য চেয়েছে এনবিআর’র সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল। এনবিআর সূত্র এ তথ্য জানা গেছে।

ওই চিঠিতে ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে এম আবদুস সোবহান, তার স্ত্রী মনোয়ারা সোবহান, ছেলে মুশফিক সোবহান, মেয়ে সানজানা সোবহান ও জামাতা এ টি এম শাহেদ পারভেজের।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যসহ তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের একক বা যৌথ নামে অথবা তাদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক আমানত, যেকোনো স্থায়ী, চলতি ও ঋণ হিসাব, ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, সঞ্চয়পত্র বা অন্য যেকোনো ধরনের সঞ্চয় থাকলে আগামী ১ জুনের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ১১৩ (এ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও কেনও ১৪০ জনকে নিয়োগ দেয়া হলো তা ক্ষতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শেষ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা। গতকাল রবিবার (২৩ মে) সকাল ১১টার দিকে এ কমিটির প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পষ্টতই আইন ও প্রশাসনিক রীতি-নীতি ভেঙেছেন। এ নিয়োগ দিতে গিয়ে তিনি অনিয়মের আশ্রয় নিয়েেছেন। নিয়োগের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সাবেক উপাচার্যের আরেকটি দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বিধায় বিচারের আগেই পালিয়ে যেতে পারেন আশঙ্কায় এ সুপারিশ করা হয়েছে।
সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের বিদেশ ভ্রমণ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ সেই ১৪০ জনের নিয়োগ বাতিল চেয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
কমিটির প্রতিবেদনে নিয়োগের ঘটনায় প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ড. এম আব্দুস সোবহানকে।
এ ঘটনায় প্রধান সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তার জামাতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রভাষক এটিএম শাহেদ পারভেজকে।
এছাড়া সংস্থাপন শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী, রেজিস্ট্রার শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার তারিকুল আলম ও পরিষদ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মামুন অর রশীদকে সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া এত বড় অবৈধ নিয়োগ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুই উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কেবল শেষদিনে গণনিয়োগ পাওয়া ১৪০ জন নয়, স্বজনপ্রীতি ও যোগ্যতা কমিয়ে নিয়োগ পাওয়া আরো ৩৪ জন শিক্ষকের নিয়োগও বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে এম সোবহানের দেওয়া ১৪০ জনের অবৈধ নিয়োগের সুবিধাভোগী বেশ কয়েকজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই শিক্ষকদের স্ত্রী, সন্তান, জামাতাসহ বিভিন্ন নিকটাত্মীয় অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। এজন্য অবৈধ এ নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদেরও পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে।

 

 

আপনার মতামত লিখুন :