রাবি: ফলাফল বিপর্যয়ে তদন্ত করেনি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসিকে চিঠি

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:২৯ PM, ০২ এপ্রিল ২০২১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি ড.সৈয়দ আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের (এমএসএস) পরীক্ষার ফল বিপর্যয়, সেচ্ছাচারিতা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে উক্ত বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা না নেয়ায় বাধ্য হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা.দিপু মনি ও, ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহিদুল্লাহ বরারব চিঠি দিয়েছেন উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
গত ৩০ মার্চ (মঙ্গলবার) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা এই চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানান গেছে।
চিঠিতে উল্লেখ করে তারা জানান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হবার পর সকল বর্ষে সকলেরই ভালো ফলাফল অর্জন করেছিলাম। এর মধ্যে ১জন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক পেয়েছিলো ও আরেকজন ইউজিসির বৃত্তি লাভ করে। আমাদের এই অর্জনে পূর্ববতী সভাপতি ও শিক্ষকগণ অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।

আমরা জানি যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ১৯৭৩ এ্যাক্ট অনুযায়ী পরিচালিত হয়। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাক্ট এর প্রথম স্ট্যাটিউট এর ৩(১) দ্বারা মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি নিয়োগ দান করেন। তেমনি বর্তমান উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভঙ্গ করে তার ঘনিষ্ঠ ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ আল মামুনকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে,  বর্তমান সভাপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভাগের সকল শিক্ষার্থীর জীবনে দুঃসময় নেমে আসে। তার স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষার্থীদের ভয় ভীতি প্রদর্শন, পক্ষপাতিত্ব, ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণে দায়িত্বে অবহেলা, অনৈতিক কার্যকলাপে ফলে ফলাফল খারাপ হয়ে বলে দাবি করেন তারা।

তারা আরো উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক  ফলাফল পরিবর্তন দাবি জানিয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর ২০ তারিখে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছিলাম। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহানের সাথে সাক্ষাত করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোন তদন্ত কমিটি গঠন করেননি। এতোদিনেও তদন্ত কমিটি গঠন না করে কালক্ষেপণের মাধ্যমে বিভাগের সভাপতিকে সহযোগিতা করছেন উপাচার্য।
আমরা মনে করি বিভাগের সভাপতি ও পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড.সৈয়দ আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর অনৈতিকতা,অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব,প্রতিশোধ পরায়ণতার কারণে ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।

এমতাবস্থায়, উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার সকল উত্তরপত্র ও থিসিসের পুর্ণমূল্যায়ন এবং ইনকোর্স নাম্বার প্রদান করে পুনরায় ফল প্রকাশ  করার ব্যবস্থাসহ বিভাগের সভাপতি এমন কর্মকান্ডে শাস্তির দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি জানিয়ে সভাপতি সৈয়দ আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের  সকল নিয়ম অনুসরণ করেই পরীক্ষা নেয়া ও ফল প্রকাশ করা হয়। এর বাহিরে কিছু হয়না। এখানে পক্ষপাতিত্বের কিছু নেই। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভালো কিছুর জন্যই আমাদের কঠোর হতে হয় এটাকে ভয়ভীতি হিসেবে নিলে আমাদের ত কিছু করার নেই। শিক্ষার্থীরা যেসকল অভিযোগ দিয়েছে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে ব্যবস্থা নিবে এতে আমার আপত্তি নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, বিষয়টা নিয়ে আমরা অবগত রয়েছি, ‘বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন’ রয়েছে। শীগ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তদন্তে দেরী হওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা(অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রফেসর লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সকল প্রয়োজনে উপাচার্য সবসময় পাশে থাকেন। কয়েকদিন যাবত খুব ব্যস্ত আছেন সেজন্য এ বিষয়ে গুরুত্ব দেননি। আশাকরি কয়েকদিন মধ্যে এ বিষয়ে সুরহা করবেন।
উপাচার্য সভাপতিকে বাঁচানোই চেষ্টা করছেন শিক্ষার্থীদের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে লুৎফর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল চেয়ারম্যান সাথে উপাচার্যের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। সেজন্য এটা ভাবা যাবেনা যে তাকে সহযোগিতা করছে।

আপনার মতামত লিখুন :