রাবি ভিসির অভিযোগ অসত্য বললো ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তরা

বিডি ক্যাম্পাস ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৫৩ PM, ২৫ জুন ২০২১

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাবেক ভিসি প্রফেসর এম আবদুস সোবহানের শেষ কার্যদিবসে দেয়া নিয়োগপ্রাপ্তদের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহাসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এমন অভিযোগ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি জানিয়েছেন নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
গত কয়েকদিন ধরে চাকরী স্থায়ীকরণ ও দ্রুত যোগদানের দাবিতে ভিসি বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করে আসছিলো নিয়োগপ্রাপ্তরা। সেই সাথে আন্দোলনকারীদের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহাসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ফাইন্যান্স কমিটির সভা ও সিন্ডিকেট না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন রুটিন উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নগর পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা। শান্তি শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার জন্য অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৩৮ জনকে দায়ী করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রুটিন উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৬ মে নিয়োগকে কেন্দ্র করে যে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার দ্বন্দ্ব এখনও শেষ হয়নি। গত ৩১ মে উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ আমরা কয়েকজন কথা বলছিলাম। যারা কথিত চাকরি পেয়েছে তারা আমার বাসভবনের গেট উপড়ে ফেলে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও অপ্রত্যাশিতভাবে অনুমতি ছাড়াই ৫০/৬০ জন ঘরে ঢুকে পড়ে এবং সভা পন্ড করে দেয়। আমি ভেতরে ছিলাম। দেখি আমার সন্তান ও স্ত্রী কাঁদছেন। তারা ভয় পেয়েছেন। বাসভবনে নিরাপদ মনে করছি না। কখন কি হয়ে যায়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত ভিসির এমন অভিযোগকে অস্বীকার করেছে আন্দোলনকারীরা।

“রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার” নামক গ্রুপে
দৃষ্টি আকর্ষণ জানিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত আতিকুল ইসলাম সুমন পোস্ট করে লিখেছেন, রাবির সাবেক ও বর্তমান সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ রাবিতে যারা আন্দোলন করছে তারা কিন্তু আপনাদেরই ক্যাম্পাসের ভাই। আন্দোলন কারীর একজন আমি। একটি বিষয় আপনাদের বলবো যে ভিসি স্যার আমাদের নিয়ে যে অভিযোগ গুলো বলেছেন তা অসত্য ও আমাদের সবার জন্য বিব্রতকর। আমরা তাদের সাবেক শিক্ষার্থী দাবি ও অধিকার আদায়ে বাক বিতন্ডা হতেই পারে। কিন্তু খারাপ আচরণ বা অসম্মান করা হয়নি কোনসময়। যা হয়েছে সবার সামনেই হয়েছে। এধরণের অভিযোগে সত্যিই আমরা বিব্রত। একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের নামে এধরণের অভিযোগ গণমাধ্যমে জানাবেন অবিশ্বাস্য।

এই গ্রুপের সদস্যরা সবাই অবৈধ বলছেন, বাজে বাজে মন্তব্য করছেন যা আরেক রাবিয়ান ভাই এর বুকে আঘাত লাগে। এটা কি বুঝেন আপনারা?
সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ নিয়োগপ্রাপ্তরা আপানাদেরই ভাই, একই ক্যাম্পাসের।

আরেকজন বলেন, “শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে শত্রুর মত আচরণ যখন কেও করে তখন কিছু বলার ভাষা নেই। মিথ্যা অভিযোগ ঠিক নয়।”
নিয়োগপ্রাপ্ত টগর সালেহ নামে আরেকজন ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন, “এগুলো ওনার মিথ্যাচার, উল্টো যদি আমরা বলি ওনি সেদিন কয়েকজনকে কিল-ঘুষি মেরেছেন,কেমন লাগবে?”

নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ জানিয়ে বলেন ,আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। আমরা ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে সাবেক ভিসি আমাদের নিয়োগ দিয়েছেন।যা আমাদের প্রাপ্য। কিন্তু চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত ভিসি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা কৌশলে আমাদের নিয়োগ আটকে দিয়েছেন। আমরা বারবার তার কাছে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাল-বাহানা করেছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে সিন্ডিকেট মিটিং করতে পারে কিন্তু আমাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। আমাদের নিয়োগ স্থায়ী হোক বা না হোক আমাদের সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছি। কিন্তু ভিসি মন্ত্রণালয়ের কাছে তার হাত পা বাঁধার কথা বলেন।

প্রসঙ্গত,চাকরী স্থায়ীকরণ ও দ্রুত যোগদানের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলো নিয়োগপ্রাপ্তরা। সেই সুবাদে ভিসি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচী আয়োজন করে তারা। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়টা নিয়ে সুরহা করা হবে এই আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে এমনটাই জানিয়েছেন তারা।

 

আপনার মতামত লিখুন :