রাবি ভিসির বিদায়ে আবেগাপ্লুত শিক্ষার্থীদের ভিডিও বার্তা!

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:৩১ AM, ০৫ মে ২০২১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ের (রাবি) উপাচার্যের প্রফেসর ড. আব্দুস সোবহানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামীকাল ৬মে (বৃহস্পতিবার)। তার মেয়াদকালে জন্ম দিয়েছেন নানা বির্তকের। তবুও উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পূর্বে ভিসি আবদুস সোবহানের প্রতি ভালোবাসা এবং হৃদয়ের করুণ আকুতি জানিয়েছে রাবি শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার ভোরে (৫মে) নিখিল বঙ্গ বিয়ে খাওয়া কমিটি (নিব্বিখাক) এর আয়োজনে
এক বিষণ্ন-শোকাতুর ভিডিও বার্তায় প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।

ভিডিও বার্তায় রাবির সাবেক শিক্ষার্থী মোল্লা মোহাম্মদ সাইদ বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ উপাচার্য, যার জন্ম না-হলে রাজশাহী বিশ্বব্যিালয়ের সৃষ্টি হতো না, তামাম জগতের শাইখুল ফিজিক্স, জাতীয় শিক্ষাঙ্গণের আকাবির, মহামহিম আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবদুস সোবহান এর বেদনাবিধুর সমাপন রাত পোহালেই। দুঃখ-বিরহ-বেদনা-বিচ্ছেদ ও কালোমেঘে ছেঁয়ে গেছে আমাদের হৃদয়। প্রিয় বিদায়ের ক্ষণে হৃদয়ের রাজপথে চলছে তাজিয়া মিছিল। প্রকৃতিতে সেই আভাষ দিতে কৃষ্ণচুড়ার রক্তে সবুজ মতিহারেও চলছে শোকের মাতম। এই বিদায়ে প্রকৃতিও আজ অংশ নিতে ঘোষণা করছে হৃদয়ক্ষরিত দহন। বৃক্ষগুলো আর্তনাদ করছে- ‘কাটো কাটো, কাটো আমাকে’। মাটি বলছে ‘খোড়ো খোড়ো, খোড়ো আমাকে’। তারা অবনত চিত্তে আরও আত্মচিৎকার করে চলছে ‘মহামহিমের প্রস্থানে মতিহার আজ আমাদের জন্য বিষাক্ত’। তাই সঙ্গত কারণে আজ এই ক্ষরণকালে দ্বিধাহীন অনুভূতি ব্যক্ত করতে অবলীলায় উচ্চারণ করতে চাই ‘কোন শত্রুরও যেন এমন প্রিয়জন দূরে চলে না যায়’।

ভিডিও বার্তায় আরো বলা হয়, জগদ্বিখ্যাত জ্ঞানের দিশারীর বিদায়ে স্রষ্টার সকল সৃষ্টির মধ্যে চলছে আহাজারী। মেঘের অশ্রুতে গ্রীষ্মের খরতাপও পরাজয় মেনে নিয়ে শীতল করছে তটিনী, শৃঙ্গ, মাউন্ট ইরেবাস। মরুতে চলছে সাইমুম, পয়োধরে ঊর্মির উৎরোল। এই আবেগঘন সময়ে আপ্লুত অনুভব নিয়ে- নিখিল বঙ্গ বিয়ে খাওয়া কমিটি (নিব্বিখাক) প্রিয় অভিভাবককে ‘মতিহারের দুঃখ’ উপাধিতে ভূষিত করে প্রীত হচ্ছে। এবং প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে, অকৃত্রিম শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের প্রয়াসে নিব্বিখাক দিনব্যাপী শোককথন, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। উক্ত আয়োজনসমূহে আপনাদের অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা আমাদের প্রাণিত করবে।

অনুষ্ঠান সূচি

গণক্রন্দন: বেলা ১১টা
বিরহযাত্রা: বেলা ১২টা
অনশন: গোসলের পর থেকে বাদ মাগরিব
বুকে জড়িয়ে মাতম: দিনের যেকোন সময় বিশ্বের যেকোন প্রান্তে (সর্বনিম্ন দুজন, অনধিক পাঁচজন)
প্রসেঞ্জিত কুমারের নেতৃত্বে নির্বিঘ্নে ঘাসে হাঁটা: বিকাল ৫টা (ঐচ্ছিক)
বিরতি: ৬টা থেকে ৭৩০টা (গোসল, ইফতার ও বিশ্রাম)
মূল আলোচনা: ৮টা
বিরহবিলাস: মূল আলোচনা শেষে

 

 

আপনার মতামত লিখুন :