রাবি থেকে মাটি চুরি: ট্রাক্টর চাপায় ১জনের মৃত্যু

উমর ফারুক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:২৪ AM, ২৬ এপ্রিল ২০২১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গত ২৭ দিন ধরে পুকুর খননের নামে কোটি-কোটি টাকার মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়। প্রতিদিনের মতই রাতের আঁধারে বিশ্ববিদ্যালয় পুকুর থেকে মাটি নিয়ে যাওয়ার সময় মাটি বোঝাই ট্রাক্টরের চাপায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে মহানগরীর চৌদ্দপাই এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মেরাজ (২৬) নগরীর উপকণ্ঠে কাটাখালী থানাধীন কিসমত কুখন্ডীর বাসিন্দা দুলালের ছেলে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পুকুর খনন প্রকল্পে গাড়ির হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাবির পুকুর থেকে খননকৃত মাটি নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার গর্তে চাকা পড়ে ট্রাক্টরটি উল্টে যায়। এসময় ট্রাক্টরে অবস্থানরত মেরাজ পড়ে গিয়ে চাপা পড়েন। রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিদ্দিকুর রহমান  বলেন, ‘চালক পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লাশ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ময়নাতদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও কৃষি প্রকল্পের উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা এবং প্রকল্পের ইজারাদার মাসুদ রানার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুকুর খননের মাটি ইট ভাটায় বিক্রির প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। তবে প্রগতিশীল শিক্ষকদের আহবায়ক ও আহবায়ক কমিটির সদস্যদের দুইটি আলাদা বিবৃতি এসেছে গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে। দুইটি বিবৃতিতেই দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। এছাড়া দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে কমিটির ১৬ সদস্য স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে মাটি বাইরে নেয়ার সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইন্ধন রয়েছে দাবি করে শিক্ষকরা বলেছেন, অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি যে, প্রশাসন এ প্রক্রিয়া বন্ধে বা উক্ত ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ হরিলুট বা বিধি বহির্ভূতভাবে কারো কাছে ছেড়ে দেয়া অথবা এমন কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা নিশ্চিতভাবেই দুর্নীতি ও হরিলুটকে সমর্থনের শামিল।
প্রসঙ্গত, গত বছর মার্চে শহিদ শামসুজ্জোহা হলের পূর্বপাশের প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পুকুর খননের টেন্ডার হয়। এতে মাসুদ রানা ও অহনা ট্রেডার্স নামের দুইটি প্রতিষ্ঠান এ ইজারা পায়। তবে শর্ত ভঙ্গ করে গত ২৭ মার্চ থেকে খননরত পুকুরের মাটি ট্রাকভর্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যেতে থাকে জোহা হলের পূর্ব-দক্ষিণ জলাশয় লিজ গ্রহীতা দুই পক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি- মাটি বিক্রি বন্ধে দুই দফা নির্দেশনা দেওয়া হলেও এ নির্দেশ তোয়াক্কা করছে না।

আপনার মতামত লিখুন :